বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

নতুন বছরে পবিপ্রবি বরিশাল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

নতুন স্বপ্ন আর প্রত্যাশার প্রাঙ্গণে আগমন ঘটছে ইংরেজি নতুন বছরের। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের জনগণও বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে ব্যস্ত। বিদায় নিচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থানসহ নানা ঘটনাবহুল ২০২৪ সাল। নতুন উদ্যম ও চেতনায় ভরপুর হয়ে দেশবাসী নতুন বছরের সম্ভাবনাময় আগামীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্তির হিসাব নিয়ে আশা ও […]

নিউজ ডেস্ক

৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৮:০৪

নতুন স্বপ্ন আর প্রত্যাশার প্রাঙ্গণে আগমন ঘটছে ইংরেজি নতুন বছরের। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের জনগণও বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে ব্যস্ত। বিদায় নিচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থানসহ নানা ঘটনাবহুল ২০২৪ সাল। নতুন উদ্যম ও চেতনায় ভরপুর হয়ে দেশবাসী নতুন বছরের সম্ভাবনাময় আগামীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্তির হিসাব নিয়ে আশা ও নিরাশার মাঝে নতুন বছর আমাদের স্বপ্নকে কতটা বাস্তবায়িত করতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে।

নববর্ষ বরণের এই শুভক্ষণে, সামনে কী অপেক্ষা করছে তা কারও জানা নেই। তবে অজানা ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে, মঙ্গলময় ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় এগিয়ে চলা প্রয়োজন। শুভ প্রয়াস ও ভালো কিছুর আশা সর্বদাই মানুষের অন্তরে বিরাজমান। এই কল্যাণকর উন্নয়নের আশায় শুরু হোক নববর্ষের প্রথম প্রভাতের পথচলা। নতুন স্বপ্ন আর প্রত্যাশার আলোকে উদ্ভাসিত ২০২৫ সাল আলোকিত দিন ও নিরাপদ জীবনধারার সূচনা হোক।

এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বরিশাল ক্যাম্পাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী। নতুন বছরের প্রতিটি মুহূর্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নবীন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে, যা তাদের একাডেমিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত করার সুযোগ এনে দেয়। তারা সেই সুযোগগুলোকে সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে নতুন মাত্রায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করেন।

“মানবতার অঙ্গীকার: নতুন বছরের আহ্বান”

কালের স্রোতে বিলীন হলো আরও একটি বছর। উন্মোচিত হবে নতুন বছর ২০২৫-এর দ্বার। আশা-নিরাশার দোলাচলে, উত্থান-পতনের মিশ্রণে অতিবাহিত হলো গত বছরের দিনগুলি। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মেলানো যেন এক দুরূহ সমীকরণ।

মানুষে মানুষে ভালোবাসা কমেছে, অভিমান জন্মেছে পর্বতের ন্যায়। মূল্যবোধে লেগেছে অবক্ষয়ের দংশন, যুদ্ধের সাথে লোভের বাড়বাড়ন্ত। সহিংসতা, নৃশংসতা ও নির্মম রক্তাক্ত ঘটনাবলি যেন গত হওয়া বছরটির সাক্ষী। দেশের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ছিল বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার।

আমরাও প্রতিবছরের ন্যায় হাজারো আশা-প্রত্যাশা, স্বপ্ন-সম্ভাবনা ও প্রকৃত মানুষ হওয়ার সংকল্প নিয়ে পথচলা শুরু করি। কিন্তু সেই আশা-প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণে নিজেদের কতটা সচেষ্ট রাখি?

নতুন বছরের প্রারম্ভে সকলের প্রতি আহ্বান, আসুন, প্রথমেই একজন ভালো মানুষ হই। পুরানো বছরের হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা, হানাহানি ভুলে গিয়ে নিজেকে নবরূপে গড়ে তুলি। এখানেই রয়েছে মানবজীবনের প্রকৃত স্বার্থকতা।

মেহেদী হাসান

সেশন ২০২০-২১

“নতুন বছরে ক্যাম্পাসে নবজাগরণ”

এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ যেভাবে স্বৈরাচারিতা মুক্ত হয়ে নতুন রূপ নিয়েছে ঠিক সেভাবেই নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা ক্যাম্পাসটাকে নতুন রূপে সাজানো। হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ আসন না থাকার কারণে অনেকেই গণরুমে অবস্থান করে যা সুস্থ ভাবে থাকার অন্তরায়। হল প্রশাসনের প্রতি প্রত্যাশা থাকবে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হলের আসন বরাদ্দ দেওয়া। ক্যাম্পাসের আঙিনায় এলোমেলোভাবে ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকে, আমরা অনেকেই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলি। নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা থাকবে আমরা সবাই যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে সঠিক জায়গায় ময়লা ফেলবো এজন্য ক্যাম্পাস প্রশাসনের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে সঠিকভাবে রাস্তার প্রতিটি মোড়ে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া। নতুন বছরে প্রশাসনের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে সেশনজট কমিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা আরও যেন তারা দ্রুতগামী করে দেয়।

নতুন বছরে শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক সুন্দর সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে নতুন উদ্যমে নতুনভাবে গুছিয়ে এগিয়ে যাক আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাস। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

মোঃ ফারহান সাদিক

সেশন ২০২১-২২

“শিক্ষকদের থেকে সহানুভূতিশীল মনোভাবের প্রত্যাশা”

একটি আদর্শ ক্যাম্পাসে থাকতে হয় সুব্যবস্থিত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক পাঠাগার, এবং গবেষণা সুবিধা। যেখানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল ক্যাম্পাসের কোনো শ্রেণিকক্ষে নেই সাউন্ড সিস্টেম,অধিকাংশ শ্রেণীকক্ষের প্রজেক্টরের বেহাল দশা, প্রতিটি ল্যাবে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির সংকট,যা শিক্ষার্থীদের উন্নত পাঠদানের অন্তরায়। হল এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারে। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকা উচিত। শিক্ষকদের সহানুভূতিশীল মনোভাব শিক্ষার্থীদের মানসিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। ক্যাম্পাসে সমতা ও অন্তর্ভুক্তির পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি, যাতে সবাই একসাথে এগিয়ে যেতে পারে। পবিপ্রবির বরিশাল ক্যাম্পাসে ক্যান্টিনে ও হলের ডাইনিংয়ে উন্নত পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা উচিত। ক্যাম্পাসে সকল ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। নতুন বছরে যেনো কোনো রাজনৈতিক দল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে প্রশাসনকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে,যা সকল শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে। পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ক্যাম্পাসের প্রতিটি মোরে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো ক্যাম্পাসকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। সর্বোপরি, একটি ভালো ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য প্রেরণা দেবে।

মোঃ ফাহিম

সেশন ২০২১-২২

জুলাইয়ের চেতনা: বৈষম্যহীন ভবিষ্যতের স্বপ্ন

জুলাই এর রক্তক্ষয়ী বিপ্লব পর যে নতুন বাংলাদেশ এর সূচনা হয়েছে তা অক্ষত রেখে নতুন বছরে জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যমুক্ত সুন্দর ক্যাম্পাস বিনির্মাণ আমাদের লক্ষ্য। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল ক্যাম্পাস নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত । লাইব্রেরিতে বই ও জার্নাল সংকট, ল্যাবরেটরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ও শিক্ষা উপকরণের অভাব। প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে নতুন বছরে লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বই, জার্নাল এর ব্যবস্থা করা ও ল্যাবরেটরিতে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম সরবরাহ করা । তাছাড়া ক্যাম্পাসের এক মাত্র ছাত্র হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় অনেকটা জরাজীর্ণ অবস্থা ও বহু কক্ষ ব্যবহারের অনুপযুক্ত। নতুন বছরে হল প্রসাশনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলের ভবন গুলো পর্যাপ্ত সংস্কার করে অনুপযুক্ত রুম গুলো ব্যবহার যোগ্য করে হলের সিট সংকটের কিছুটা হলেও যেন অবসান করা হয়। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এর পরিবহণ ব্যবস্থা। দুঃখজনক হলেও সত্য বিপুল সংখ্যক ছাত্র থাকা সত্বেও ক্যাম্পাসের বাসের সংখ্যা মাত্র একটি। আশা করি নতুন বছরে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরিবহণ ব্যবস্থা সমৃদ্ধ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি সময়ের দাবি।

নতুন বছরে শিক্ষক , শিক্ষার্থী, প্রশাসন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাক আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাস এটাই প্রত্যাশা। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা, নতুন বছর আপনাদের সবার জীবনে কল্যাণ বয়ে আনুক এই কামনা।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।