ইরফান উল্লাহ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়:
শিক্ষার্থীদের ফলাফল ‘ভ্যানিশ’ করার ভয়ভীতি, ইন্টার্নাল মার্কে দ্বিচারিতা, ডমিনেট করার চেষ্টা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক তন্ময় সাহা জয়ের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার ক্লাস বর্জন করেছেন বিভাগটির ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিভাগটির সভাপতি ড. মো. রাশিদুজ্জামান বরাবর তিন দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- তন্ময় সাহা জয় স্নাতক চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে স্নাতকোত্তরের ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত কোনো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে (ক্লাস, পরীক্ষা,
মৌখিক পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়ন, পূণর্মূল্যায়ন) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারবেন না। অ্যাকাডেমিক স্বার্থে আঘাত আসতে পারে এমন কোনো আশংকা দেখা দিলে বিভাগ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তার সভাপতিত্ব চলাকালে ব্যাচের অ্যাকাডেমিক কোনো জটিলতা যেন সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়াও স্মারকলিপিকে তারা বলেন, আমরা শিক্ষক তন্ময় সাহা জয় এর ক্লাস করতে অনিচ্ছুক। এ নিয়ে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমাদের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই। স্যার আমাদের ক্লাস নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তার ক্লাস বর্জন করেছি। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে স্থির আছি। এছাড়া স্যারের কোনো ক্ষতিসাধন কিংবা অনিষ্ট চিন্তায় আমাদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় নি।
বিভাগটির শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক তন্ময় সাহা জয় শিক্ষার্থীদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা, ফলাফল ‘ভ্যানিশ’ করে দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, এবং ইন্টার্নাল মার্ক প্রদানে দ্বিচারিতা করে আসছেন। এছাড়া ক্লাসে অন্য শিক্ষকদের সমালোচনা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলার অভিযোগও রয়েছে জয়ের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগটির একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষক জয় ফলাফল নিয়ে কিভাবে বের হব এবং দেখে নেওয়া হবে—এ ধরনের হুমকি দিতেন। সর্বশেষ নির্বাচনের পর স্যারের একটি ক্লাস ছিল। অনেক শিক্ষার্থীর বাসা দূরে হওয়ায় ক্লাস বাতিলের জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বরং ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। অথচ অন্যান্য শিক্ষকরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত না হলে তিনি ক্লাস বর্জনের নোটিশ দেন এবং সকলের অ্যাটেনডেন্স বাতিল করার হুমকি দেন। তিনি যখন আমাদের ক্লাস বর্জন করেন, তখন আমরাও তার ক্লাস বর্জন করে স্মারকলিপি জমা দিই। এরপর জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে চেয়ারম্যান স্যারের কাছে সার্বিক বিষয়ে আমরা অভিযোগ জানাই।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় জাগো নিজকে বলেন, ‘৩ মার্চ অ্যাকাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এর আগে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। বিভাগ বিষয়টি দেখবে।’
বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ রশিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩ মার্চ আমাদের অ্যাকাডেমিক মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। মিটিংয়ে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কোর্সটি অন্য শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অন্যান্য অভিযোগ লিখিতভাবে দিলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’