মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় ভোটের হার অর্জন করতে না পারায় ১২ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনের তিনটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট পেতে হয়। তা না হলে মনোনয়নপত্র জমার সময় জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হয়।
মুন্সিগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর)
শেখ মো. আব্দুল্লাহ বিজয়ী হয়েছেন এ আসনে। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬২ ভোট।
এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫,৪৫,৫১৯ জন। বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭২টি (৫৭.৯৬%)। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৯,৫২১ ভোট।
৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানত হারান। কাস্তে প্রতীকের আব্দুর রহমান (৪৪৩), আপেল প্রতীকের রোকেয়া আক্তার (৩২০), হাতপাখা প্রতীকের মো. আতিকুর রহমান খান (৯,০৩৯) এবং ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মমিন আলী (৩০,৬৭৮) প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজী ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন।
মুন্সিগঞ্জ-২ (টঙ্গীবাড়ী-লৌহজং)
এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুস সালাম আজাদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৪ ভোট।
মোট ভোটার ছিলেন ৩,৭৮,৪৯২ জন। বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ২ হাজার ১৭৩টি (৫৩.৪২%)। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৫,২৭১ ভোট।
৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। চেয়ার প্রতীকের আশিক মাহমুদ (৬৫১), লাঙ্গল প্রতীকের নোমান হোসেন (২,৮৫৭) এবং হাতপাখা প্রতীকের কে এম বিল্লাল (১৩,৩৮৭) প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান।
শাপলা কলি প্রতীকের মাজেদুল ইসলাম ৫৮ হাজার ৫৭৩ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন।
মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া)
এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন মো. কামরুজ্জামান রতন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট।
মোট ভোটার ছিলেন ৫,০৯,৪৬৭ জন। বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫১টি (৫৫.৪৪%)। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪,৫০৬ ভোট।
৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত হারিয়েছেন। আনারস প্রতীকের আনিছ মোল্লা (২৯৪), লাঙ্গল প্রতীকের এ এফ এম আরিফুজ্জামান দিদার (৮০৪), কাস্তে প্রতীকের শেখ মো. কামাল হোসেন (৩০৪), কোদাল প্রতীকের শেখ মো. শিমুল (১৭৪) এবং হাতপাখা প্রতীকের সুমন দেওয়ান (৬,৩৯২) প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান।
ফুটবল প্রতীকের মো. মহিউদ্দিন (৮৮,৯৩৬) এবং রিকশা প্রতীকের নুর হোসাইন নুরানী (৫৪,৪৫৬) জামানত রক্ষা করেন।
মুন্সিগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দা নুরমহল আশরাফী আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়।