রবিউল ইসলাম শিবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “স্বাধীনতার পরে কোনো সরকার বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না আমার সরকারটি ন্যায়পরায়ণ ও দুর্নীতিমুক্ত ছিলো। একটা সরকারও বলতে পারবে না।
এমপি হওয়ার আগে শ্বশুর বাড়িতেও সম্পদ ছিলো না, নিজেরও সম্পদ ছিলো না। কিন্তু এমপি হওয়ার পর দেখা যায় লাফিয়ে লাফিয়ে শ্বশুর বাড়ির সম্পদ বাড়ে। সালির সম্পদ, সালার সম্পদ, ভায়েরার সম্পদ, শ্বাশুড়ির সম্পদ শ্বশুরের শ্বশুর যিনি তারও সম্পদ বাড়ে।
জনগণের টাকা চুরি করে, লুণ্ঠন করে, ডাকাতি করে। ব্যংকের টাকাও ডাকাতি করে। এই ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত সাড়ে ১৫ বছরে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের পাঁচ গুণ। পুরো ৫ বছরের বাজেট চুরি করে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই ধরনের লোক এই কাজ করেছে। তারা হলো কিছু রাজনৈতিক দুর্বিত্ত ও যারা রাষ্ট্রের পরিসেবায় নিয়োজিত ছিল।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর এক এক করে ৫৪ বছর কেটে গেলো। এই ৫৪ বছরে আমরা যে বাংলাদেশটা চেয়েছিলাম, সেই বাংলাদেশ পাইনি। ওই বাংলাদেশ যদি থাকতো, তাহলে আজকে লাখো শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হত না, আজকে অপুষ্টিতে লাখো শিশুর শরীর থেকে হাড্ডিগুলো বেরিয়ে আসত না।
আজকে মা ও বোনেরা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তাদের বুকটা ধুক ধুক করে কাপত না। তারা ভাবত এটিই আমার নিরাপদ বাংলাদেশ। এটিই স্বাধীন বাংলাদেশ।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আজকের বিচার ব্যবস্থা পয়সার বিনিময়ে প্রভাবিত হয়, ক্ষমতার গরমের বিনিময়ে প্রভাবিত হয়। আজকে গরীবের কোনো বিচার নাই। নিরবে কেঁদে কেঁদে শেষ হয়ে যায়। একানব্বই ভাগ মুসলমানদের দেশে এটা তো হওয়ার কথা ছিলো না।
স্বাধীন বাংলাদেশে এটা হওয়ার কথা ছিলো না। কারা করেছে? এখানে কি অন্য দেশের জঙ্গল থেকে জ্বিন ভুতেরা এসে করেছে? এই দেশের মানুষেরাই করেছে।
এই দেশের মানুষ যুগে যুগে সুন্দর সুন্দর কথা বলে নির্বাচনের সময় যারা আপনার আমার ভোট পেতেছিলো, তারা ৫৪টি বছর জাতিকে এইভাবে শোষণ করেছে, জাতির ওপর তারা নির্যাতন চালিয়েছে। কখনো একটু বেশি কখনো একটু কম।
তিনি আরও বলেন, “গত সরকার সুন্দর করে বলেছিলেন, আমরা বাংলাদেশকে কানাডা এবং সিঙ্গাপুর বানাবো। তা কি বানিয়েছে? কিন্তু আমরা কানাডাও বানাবো না, সিঙ্গাপুরও বানাবো না। আমরা আমাদের মায়ার, প্রত্যাশার, নিরাপদ ও অগ্রগতির বাংলাদেশ বানাবো ইনশাআল্লাহ।
আমরা নিজে দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতি করতেও দেবো না। আমরা নিজে চাঁদাবাজি করবো না, কাউকে চাঁদাবাজি করতেও দেবো না। আমাদের পরিষ্কার অঙ্গীকার, আমরা সবার জন্য বিচার ব্যবস্থা সমান করবো ইনশাআল্লাহ।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি ও বর্তমান জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হক সরকার।