নান্দাইল ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
এলাকায় কোনো জমি বেচাকেনা হলেই দিতে হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। মতের অমিল হলেই আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষদের হয়রানির পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের বিয়ে পর্যন্ত ভেঙে দেয়। এমন অভিযোগ উঠেছে
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের রামগোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা মুহুরী খায়রুল ইসলাম রতন ও তাঁর ভাই মেহেদী হাসান মঞ্জুর বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা এলাকায় গেলে অন্তত শতাধিক ভুক্তভোগী জড়ো হন। তারা মুহুরী রতন, তার ভাই মেহেদী হাসান মঞ্জু ও পিতা সাহেদ আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও নিপীড়নের অভিযোগ করেন। স্থানীয়রা জানান, রতন দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একজন আইনজীবীর সঙ্গে মুহুরী হিসেবে কাজ করছেন এবং সেই পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় চরম আধিপত্য বিস্তার করছেন।
২০২৩ সালে রামগোবিন্দপুর গ্রামের আবুল খায়ের ১৫ শতক জমি কিনতে গেলে রতন ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রতন ওই বছরের মধ্যে আব্দুল বারেককে ব্যবহার করে জমির ওপর মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি ময়মনসিংহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রতন বারেকের ছেলে জালাল মিয়াকে ব্যবহার করে খায়েরসহ ২১ জনের নামে নতুন মামলা করেছেন। মামলার অধিকাংশ সাক্ষী দাবি করছেন, তারা বিষয়টি জানেন না।
ছাহারা খাতুন নামে এক নারীর ভাষ্য,
তাঁর ছেলে আব্দুর রশিদ ঢাকায় থাকেন। তাকে অবহিত না করে মামলার ১০ নম্বর সাক্ষী হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন ৭ নম্বর সাক্ষী ইছব আলী। ৯ নম্বর সাক্ষী আব্দুল হান্নানও জানিয়েছেন, তার অনুমতি ছাড়া মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বাকি ১১ জন সাক্ষীর নামও মূলত তাদের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে।
মোফাসসেল ও এরশাদ নামে দুই প্রবাসীর জমি জোরপূর্বকভাবে বেদখলকরে খুঁটি পুঁতে দেন রতন, তার ভাই মঞ্জু ও মাসুদ।
হাসিম উদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগী বলেন,
মূলত রতন একটা দালাল। আদালতে কাজ করার সুবাদে মানুষকে বেকায়দায় ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই এর কাজ।
বারেক নামে এক ব্যাক্তিকে দিয়ে
মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে আমার ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা নষ্ট করাইছে মুহুরী রতন।
আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি জানান, তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এবং নিজের নামে রেকর্ডভুক্ত সাড়ে ১২ শতাংশ জমিতে তিনি বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন। এর ওপর প্রতিবেশীকে ব্যবহার করে রতন মামলা দিয়ে তাকে জটিল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। এমদাদুল হক বলেন, রতন তার বিরুদ্ধে জমিসংক্রান্ত তিনটি মামলা চালিয়ে চরম হেনস্থা করেছেন।
আবুল কালামও অভিযোগ করেছেন, মিথ্যা মামলার মাধ্যমে তাকে হয়রানি করা হয়েছে এবং বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মঞ্জু তার শার্টের কলার ধরে মারধর করেছেন। নূর উদ্দিন জানান, তিনি জমি বিক্রি করে রেজিস্ট্রি করেছেন, কিন্তু এখনও ৮০ হাজার টাকা পাননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মতের অমিল হলেই রতন ও মঞ্জু মানুষকে বিভিন্নভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করে থাকেন। এভাবেই এলাকার নিরীহ মানুষদের জিম্মি করে রেখেছে রতনের পরিবার।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত খায়রুল ইসলাম রতন ও তাঁর ভাই মঞ্জুর ভাষ্য, আমাদের বিরুদ্ধে যেই ধরনের অভিযোগ উঠেছে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যারা আমাদের বিরুদ্ধে
অভিযোগ তুলেছে সকলের সাথে আমাদের জমিসংক্রান্ত সমস্যা আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
সানজিদা রহমান বলেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।