সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
নির্বাচন কমিশন যদি কোনো বিশেষ দলকে জয়ী করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তাহলে দেশের মানুষ এই কমিশনকে কখনো ক্ষমা করবে না বলে এমন মন্তব্য করেছেন টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্যালট পেপারে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক এমন স্থানে দেওয়া হয়েছে, যেখানে সিল দিয়ে ভাঁজ করলে ব্যালট নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।
আজ বুধবার (১৬ জানুয়ারী ) টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।
আযম খান বলেন, কোন ষড়যন্ত্রে মত্ত এই নির্বাচন কমিশন? দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতীক এমন জায়গায় দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোট নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অথচ যে দল অতীতে তেমন কোনো আসনই পায়নি,দুটি অথবা একটি আসন পেয়েছে তাকে ব্যালটের একেবারে ওপরের দিকে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ ও সরকার যেখানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে, সেখানে নির্বাচন কমিশন যদি এভাবে একটি বিশেষ দলকে জিতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সারা দেশ এই কমিশনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। জনগণ কখনোই এমন কমিশনকে ক্ষমা করবে না।
ব্যালট পেপার দ্রুত সংশোধনের দাবি জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অতি দ্রুত নির্বাচন কমিশনের বোধোদয় হওয়া উচিত এবং ব্যালট এমনভাবে সংশোধন করতে হবে, যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়।
নিজের নির্বাচনী এলাকা প্রসঙ্গে আযম খান বলেন, আমি নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী। তবে এলাকায় যেভাবে অর্থের ছড়াছড়ি দেখছি, তা আমাকে শঙ্কিত করছে। এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। অথচ আমার নির্বাচনী এলাকার একজন প্রার্থী এক দিনেই ২৫ লাখ টাকা খরচ করছেন, যা সুস্পষ্টভাবে বিধিমালার লঙ্ঘন। কালোটাকার ছড়াছড়ি হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
দোয়া মাহফিলে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শিকদার মুহাম্মদ সবুর রেজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোকন খানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।