মোঃআতেফ ভূঁইয়া গাজীপুর সদর প্রতিনিধি:
শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে গাজীপুর মহানগরীর গাছার দক্ষিণ খাইলকুর এলাকার শ্রম কল্যাণ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয়দানকারী আরিফুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর বোর্ডবাজার দক্ষিণ খাইলকুর এলাকার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাকে আটক করা হয়।
জানা যায়, সকালে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরপরই যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্কুল প্রাঙ্গণ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে উত্তেজিত জনতার কারণে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়।
একপর্যায়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, শিক্ষক আরিফুল ইসলাম নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি স্কুলে স্বেচ্ছাচারিতা চালানোর পাশাপাশি একাধিক মেয়ে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। ভয়ে এত দিন কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, হান্নান গ্রুপের কর্ণধার সামছুদ্দিন দক্ষিণ খাইলকুর এলাকায় প্রায় আড়াই বিঘা আয়তনের একটি সরকারি খাসপুকুর ভরাট করে দখল করেন। সেই দখলকৃত জমিতেই শ্রম কল্যাণ নামে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।
গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন। একজন অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’