সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
উত্তরের জেলা দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। ডিসেম্বরের শেষভাগে কনকনে ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন।
শীতের কারণে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড।
গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) হতে ঘন কুয়াশার সাথে হিমেল বাতাস বইতে থাকে । শনিবারে দিনাজপুরের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দিনাজপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। সারাদিন হিমেল বাতাস বয়ে যাওয়ায় সড়ক, হাটবাজার ও খোলা জায়গায় মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের অনেকেই ভারী শীতবস্ত্র পরে চলাচল করছেন। আজকে দিনাজপুরের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৮ ডিগ্রি।
সকাল থেকে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এতে করে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। ভোরের প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে দিনমজুর, রিকশাচালক, ইজিবাইক চালক ও খেটে খাওয়া মানুষজন কাজে বের হতে পারছেন না।
এতে তাদের দৈনন্দিন আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
দিনাজপুরের সদরের বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন জানান, “আজকে সূর্য দেখা যায়নি। শুধু ঠান্ডা বাতাস বইছে। এই শীতে ঘর থেকে বের হওয়াই কঠিন। কাজে যেতে মন চায় না।”
ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে ঝুঁকিও বেড়েছে। ইজিবাইক চালক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “কুয়াশার মধ্যে কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। একটু আগে বাহাদুর বাজার এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি।”
ট্রাকচালক রহমান জানান, কয়েকদিন ধরে তীব্র শীতের সঙ্গে কুয়াশা শুরু হওয়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সামনে অল্প দূরত্বও ঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
অন্যদিকে, শীত বাড়ায় পুরাতন কাপড়ের বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, আগামী কয়েকদিন দিনের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। ২৩ ডিসেম্বরের পর থেকে রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষদিকে জেলার কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ বা শৈত্যপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।