চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যে গুজব ছড়িয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ের তথ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং ভিডিও বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে—ভারতীয় কূটনৈতিক কার্যালয়ে সরাসরি কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাতের দিকে, যখন ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওই খবরের প্রতিক্রিয়ায় চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের আশপাশের সড়কে বিক্ষোভ দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে ১০–১৫ জনের একটি ছোট দল স্লোগান দিতে থাকে। পরে আরেকটি দল সড়ক দিয়ে বিক্ষোভ করতে করতে অতিক্রম করার সময় পুলিশের দিকে পাথর নিক্ষেপ করে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের উপকমিশনার আমিনুর ইসলাম জানান, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের অফিসে কোনো হামলা হয়নি। তার ভাষায়, কয়েকজন বিক্ষোভকারী দূর থেকে পাথর ছুড়েছিল, যা কার্যালয়ের বাইরের গেটে লেগেছে। ভেতরে প্রবেশ, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং ১২ জনকে আটক করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, চট্টগ্রামে ভারতীয় কোনো কূটনৈতিক কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা মূলত সড়কে অবস্থান করছিল এবং দূর থেকে পাথর ছুড়ছিল। কোথাও ভবনের ভেতরে ঢুকে হামলার দৃশ্য নেই। নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যাচাই ছাড়া ‘হামলা’ শব্দ ব্যবহার জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা দেয়। তাই সংবেদনশীল কূটনৈতিক স্থাপনা ঘিরে যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে দায়িত্বশীল যাচাই জরুরি।