আবু বক্কর সিদ্দিক, কক্সবাজার উখিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়া পালং ইউনিয়নের ধোয়াপালং এলাকায় বন বিভাগের এক বিতর্কিত অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বন ভূমি উদ্ধারের নামে কৃষকদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও ঘাম দিয়ে গড়ে তোলা সুপারি বাগান, পান বরজসহ বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বেশ কিছু অসহায় পরিবার।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই বন বিভাগের একদল কর্মী ধোয়াপালং এলাকায় অভিযানে নামে। তারা কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা সময় না দিয়েই সুপারি গাছ কেটে সাবাড় করে দেয় এবং পানের বরজগুলো তছনছ করে ফেলে।
ক্ষতিগ্রস্ত একজন কৃষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে এই জায়গায় চাষাবাদ করে আসছি। এই বাগানগুলোই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের পথ। কোনো নোটিশ না দিয়েই তারা সব শেষ করে দিল। এখন আমরা ছেলেমেয়ে নিয়ে কী খাব?”
বন বিভাগের এই অভিযানের ধরণ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বনের জায়গায় প্রভাবশালীরা বড় বড় অট্টালিকা ও স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এমনকি বনের বিশাল এক এলাকা রোহিঙ্গাদের দখলে থাকলেও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায় না। অথচ কেবল গরিব কৃষকদের ওপর এই ‘খড়গহস্ত’ হওয়াকে বন বিভাগের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।
এই অভিযানের আইনগত ভিত্তি এবং উচ্ছেদে বৈষম্যের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ বা বিট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উচ্ছেদকৃত জমিতে থাকা হাজার হাজার সুপারি গাছ ও পানের বরজ হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া কৃষকরা এখন দিশেহারা। তারা এই অভিযানের বিচার বিভাগীয় তদন্ত, যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্যথায় পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ থাকবে না বলে তারা জানান।