ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং এই হামলার নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদেরও অবিলম্বে শনাক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং এ দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার শহীদ জিয়া মাঠে পিরোজপুর যুব উন্নয়ন সোসাইটির আয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সহযোদ্ধা এবং জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি নির্মাণে যিনি আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে সবসময় কথা বলেছেন, সেই শরিফ ওসমান হাদি বরিশালের সন্তান। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই তার ওপর সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে যে পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে।
ডাকসু ভিপি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে নানা ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতার আভাস দেখা যাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট শক্তি ও ভারতের প্রেসক্রিপশনে পরিচালিত এসব চক্রান্ত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাদির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরও যদি নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে তা অন্তর্বর্তী সরকারের বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি পিরোজপুরের সঙ্গে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর নাম গভীরভাবে জড়িত উল্লেখ করে বলেন, আধিপত্য ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইনসাফের পক্ষে যে লড়াই আজকের তরুণ প্রজন্ম চালিয়ে যাচ্ছে, তার বীজ বপন করেছিলেন আল্লামা সাঈদী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর যুব উন্নয়ন সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রয়াত জামায়াত নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আফজাল হোসাইন শোয়াইব। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ জামায়াতে ইসলামী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।