শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

২৩০০ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদনেও নেই কৃষি বিভাগে তদারকি, সরকারের সহযোগীতা চান চাষীরা

মোঃ.হাসনাইন আহমেদ প্রবাদ আছে ‘ধান সুপারি ইলিশের গোলা, এই তিনে ভোলা’। দেশের এক মাত্র দ্বীপ জেলা ভোলায় ধান, সুপারি, আর ইলিশে স্বয়ংসম্পন্ন। তবে ধান আর ইলিশ উৎপাদনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলো সক্রিয় ভুমিকা পালন করলেও সুপারির বিষয়ে তদারকি নেই কারোই। এতে হতাশা প্রকাশ করছেন সুপারি চাষীরা। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় ১২ হাজার […]

২৩০০ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদনেও নেই কৃষি বিভাগে তদারকি, সরকারের সহযোগীতা চান চাষীরা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৩৯

মোঃ.হাসনাইন আহমেদ

প্রবাদ আছে ‘ধান সুপারি ইলিশের গোলা, এই তিনে ভোলা’। দেশের এক মাত্র দ্বীপ জেলা ভোলায় ধান, সুপারি, আর ইলিশে স্বয়ংসম্পন্ন। তবে ধান আর ইলিশ উৎপাদনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলো সক্রিয় ভুমিকা পালন করলেও সুপারির বিষয়ে তদারকি নেই কারোই। এতে হতাশা প্রকাশ করছেন সুপারি চাষীরা।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ৯৬ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা পাকা সুপারি উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা। হেক্টর প্রতি কাঁচা ৭ থেকে ৮ মেট্রিক টন সুপারির ফলন হয়েছে। শুকনোর পর যা হেক্টর প্রতি ৫ মেট্রিক টন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

তবে চাষীরা বলছেন, চাষীদের একক প্রচেষ্টায় সুপারি শত বছর ধরে কৃষি পন্য ও দেশের অর্থনীতিতে ব্যপক ভুমিকা রাখছে। বছরে কোটি কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হলেও সরকার বা স্থানীয় কৃষি বিভাগের নেই কোন তদারকি বা উদ্যেগ। এতে হতাশা প্রকাশ করছেন তারা। চাষীরা নিজ উদ্যেগে সুপারিকে আজ অন্যতম বানিজ্যিক ফসলে পরিনত করেছে।

তাদের অভিযোগ, জেলার অন্যতম অর্থকরী এ ফসলে প্রচার ও প্রসারে কৃষি বিভাগের নেই কার্যক্রম। শুধু কাগজ কলমে হিসাব রাখার মধ্যেই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ। কৃষি বিভাগের কোনো প্রকল্প বা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির নির্দেশনা না থাকায় কৃষকেরা

এখনও সেই পুরনো ধাঁচে সুপারি চাষ করছেন। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগতমান ও বিপণনে রয়েছে নানা সমস্যা। এই খাত উন্নয়নের জন্য সরকারি বেসরকারি উদ্যেগ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন তারা।

চাষীদের তথ্যমতে, ভোলায় ‘গা’ ও ‘ভি’ হিসেবে সুপারি কেনাবেচা চলছে। ৩২০ পিছ সুপারিকে বলা হয় এক ‘ভি’ এবং ১০ পিচ সুপারিকে বলা হয় ১ গা। একেকটি গাছ থেকে দুই থেকে তিন ভি সুপারি পাওয়া যায়। এবছর প্রতি ভি সুপারি সাইজ অনুযায়ী ৪৫০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সুপারি মূলত পানের সঙ্গে খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এর ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। এছাড়াও পশুখাদ্য, প্রাকৃতিক রঙ তৈরি ও হস্তশিল্পসহ নানাবিধ কাজে ব্যবহার হয়। স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় ভোলার সুপারির কদর রয়েছে সারা দেশেই।

অন্য কৃষি ফসলের তুলনায় সুপারি অনেক লাভজনক। যেখানে ধান বা সবজি বছরে শতাংশ প্রতি এক থেকে দেড়হাজার টাকার ফসল পাওয়া যায়। সেখানে সুপারি পাওয়া যায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। একেকটি গাছ থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ বছর পযর্ন্ত ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও সুপারি গাছ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পরিবেশ রক্ষায় ভুমিকা পালন করে।

ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার কয়েকটি সুপারি বাগান ঘুরে দেখা যায়, সুপারি চাষীদের ভরা মৌসুম চলছে। তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি বাগানে যেন এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দিনেও রাতে সুপারি বাগানগুলো জাকজমক হয়ে উঠেছে।

গাছ থেকে সুপারি পারতে কাজ করছেন শ্রমিকরা। তারা এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে গিয়ে সুপারি পারছেন। ভোলার প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেখা মিলছে সুপারি আর সুপারি। এ যেন জেলা জুড়ে নবান্ন উৎসবের মত ভিন্ন আমেজ কাজ কাজ করছে।

শ্রমিকরা পারিশ্রমিক হিসেবে প্রতিটি গাছ থেকে সুপারি পেড়ে একেক ছরা সুপারির জন্য ৭ টাকা করে নেন। এতে তারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা খুব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, এক গাছ থেকে লাফিয়ে অন্য গাছে উঠে নামিয়ে আনেন সুপারির ছরা।

ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের হাওলাদার বাড়ির জাকির হাওলাদার বলেন, আমার দেড় একর জমিতে ১৫০০ সুপারি গাছ রয়েছে। এ বছর গাছের পাতা লাল হয়ে শতাধিক গাছ মারা গেছে। কৃষি বিভাগের সহায়তা না পাওয়ায় আমরা গাছের সঠিক যত্ন করতে পারছি না। ফলে আমাদের ফলন কম বেশি বোঝার উপায় নেই।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর তাদের এই বাড়িতেই প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার সুপারি উৎপাদন হয়। কিন্তু তাতেও কৃষি অফিস থেকে নূন্যতম সারা পাওয়া যায় না। কয়েকবার কৃষি অফিসে গেলেও কর্মকর্তারা তেমন গুরুত্ব দেয় না। সুপারি খাতের প্রতি সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

দৌলতখান উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম বলেন,

‘আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতায় সুপারি চাষ করি। কিন্তু কীভাবে ফলন বাড়ানো যায় বা রোগবালাই প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে কেউ আসেন না। সরকারের সহায়তা পেলে আমরা আরও ভালোভাবে উৎপাদন করতে পারতাম।’

কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোলার জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণ সুপারি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি প্রণোদনা পেলে এ খাত থেকে জেলার অর্থনীতিতে আরও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব যোগ হতে পারে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, ভোলার সুপারির বেশ সুনাম রয়েছে। স্বাদ ও মানে ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। সুপারি উৎপাদনে ভোলার অর্থনীতিতে ব্যাপক ভুমিকা রাখলেও সরকারিভাবে এর জন্য সহায়তা বরাদ্দ নেই। তবে সুপারি চাষীরা যদি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাহলে কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে কৃষি বিভাগ। এছাড়াও সুপারি চাষীদের যেকোন পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ছয় কোটি ৪২ লাখ সুপারি গাছ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি এর সংখ্যা আরও বেশি অনেক বেশি।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।