শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় টিটিসির ক্যাম্পাসে থাকায় ব্যহত হচ্ছে প্রশিক্ষণ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসির) ক্যাম্পাসে “নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়” শুরু থেকে পাঠ দান সহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনে জনশক্তি, শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় টিটিসির ডরমেটরি ভবনের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেন। কিন্তু অনুমতি না পেলেও টিটিসি একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় শ্রেণী কক্ষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করে আসছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী সমঝোতার মাধ্যমেই […]

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় টিটিসির ক্যাম্পাসে থাকায় ব্যহত হচ্ছে প্রশিক্ষণ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:৫৮

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসির) ক্যাম্পাসে “নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়” শুরু থেকে পাঠ দান সহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনে জনশক্তি, শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় টিটিসির ডরমেটরি ভবনের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেন।

কিন্তু অনুমতি না পেলেও টিটিসি একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় শ্রেণী কক্ষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করে আসছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী সমঝোতার মাধ্যমেই টিটিসির একাডেমিক ভবনে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

একই ভবনে টিটিসির প্রশিক্ষণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠ দান হওয়ায় প্রায়ই ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। এতে টিটিসির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গতিশীল করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সরিয়ে নিতে জনশক্তি, শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠিয়েছেন টিটিসি কর্তৃপক্ষ।

নেত্রকোনা টিটিসি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি নেত্রকোনা জেলার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠান হতে ১০টি উপজেলার কয়েক হাজার বিদেশগামী মহিলা ও পুরুষ কর্মী প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন ও বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতার সনদ অর্জন করে বিদেশে কাজের জন্য যাচ্ছে।

দক্ষতা অর্জন করে তারা দেশের জন্য বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রেরণ করেন। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেটি জেলার বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের জন্য কম্পিউটার, গ্রাফিক্স, সুইং মেশিন অপারেশন, ইলেকট্রিক্যাল, ওয়েল্ডিং, অটোক্যাড, প্লাম্বিং এন্ড পাইপ ফিটিং, ড্রাইভিং, টেইলারিং এন্ড ড্রেস মেকিং ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্সসমূহ চালু রয়েছে।

রাজস্ব বাজেটে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়নে এসব কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন টিটিসির ক্যাম্পাসে ১১টি ট্রেডে নিয়মিত ১হাজার ৬০জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে আসেন। ২একরের এ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, 

 ২০সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে তৎকালীন শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ক্যাম্পাস বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে পত্র প্রেরণ করেন। পরে ১অক্টোবর ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসক টিটিসির অধ্যক্ষকে ডরমেটরি ভবনের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের জন্য পত্র প্রেরণ করেন।

পরে টিটিসির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কক্ষ বরাদ্দের জন্য ২অক্টোবর ২০১৮ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের চিঠি প্রেরণ করেন। ১৫অক্টোবর ২০১৮ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো মহাপরিচালক অস্থায়ী ভিত্তিতে ডরমিটরীর ভবনের কয়েকটি কক্ষে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদনের জন্য সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২৮অক্টোবর ২০১৮ সালে ৩৪৩ নং স্মারকে টিটিসির ডরমিটরীর কয়েকটি কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা হয়। ওই সেশনে বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি ও কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ১২০জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরসহ ৭শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ১২৫ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস, মাইক্রোবাস ও এ্যাম্বুলেন্সসহ ১৩টি গাড়ি রয়েছে।  

টিটিসি ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হতে অনুমোদিত ডরমিটরীর ভবনের কক্ষ গুলোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিচ তলার অর্ধেক অংশ, ২য় তলার সকল কক্ষ এবং ৩য় তলার একটি কক্ষ বাদে সবকয়টি কক্ষ সবকটি দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহার করে আসছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ব্যতিত একাডেমিক ভবনের ৪র্থ তলার সবকয়টি ল্যাব ও ক্লাসরুম ব্যবহার করছেন। তাদের ব্যবহৃত সকল কক্ষ এবং কম্পিউটার ল্যাবের বিদ্যুৎ বিল টিটিসি পরিশোধ করছে। টিটিসির অনেক ফার্নিচার বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করছেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারের জন্য ফার্নিচারসমূহ ২-৩ টি কক্ষে স্টোর করে রাখার কারণে এগুলো নষ্ট হচ্ছে।

টিটিসির প্রশিক্ষণার্থী ফরিদ শেখ, কামাল, হৃদয়, নাজমা আক্তার সহ অনেকেই বলেন, টিটিসিতে বিভিন্ন বয়সের লোকজন প্রশিক্ষণ নেন। বিশেষ করে পরিবারের হাল ধরতে অনেকেই প্রশিক্ষিত হয়ে বিদেশে গমন করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কম বয়সের।

তাদের চাল চলনে অনেক প্রশিক্ষণার্থী বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। এমনকি প্রায় সময় প্রশিক্ষণার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আমরা চাই দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হোক। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, টিটিসির ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যক্রম চলমান। ফলে আমরা স্বাধীন পরিবেশ পাচ্ছি না। প্রতিযোগিতার এ সময়ে লেখাপড়ারও পরিবেশ নেই। নেই গ্রন্থাগার। পাঠদানের উপযোগী করে নিজস্ব ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিফট করা প্রয়োজন। 

নেত্রকোনা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, টিটিসির ক্যাম্পাসে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু থেকে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় এখানে থাকায় টিটিসির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

এ কারণে জাপানী ভাষার কোর্স চালু করতে পারছিনা। প্রায় সময়ই প্রশিক্ষণার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এছাড়াও অনুমতি না পেলেও টিটিসির একাডেমি ভবনের ৪র্থ তলা ব্যবহার করছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের বিদ্যুৎ বিলও টিটিসি পরিশোধ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়ার জন্য অধিদপ্তরের চিঠি পাঠিয়েছি। 

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার হারুন-অর-রশিদ বলেন, ২০১৮-১৯ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম টিটিসি ক্যাম্পাসে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো অনুমোদন নিয়ে শুরু হয়। তবে টিটিসির একাডেমি ভবনের শ্রেনী কার্যক্রম উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমেই শুরু হয়। 

বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি শিকার করে তিনি বলেন, একাডেমিক ভবনের বিদ্যুৎ বিল টিটিসি দিচ্ছে। অপরদিকে ডরমেটরী ভবনে টিটিসির স্টাফদের আবাসনের চতুর্থ তলার বিদ্যুৎ বিল বিশ্ববিদ্যালয় পরিশোধ করছে। 

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।