ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নাটোর–১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, আওয়ামী লীগ না থাকলেও নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। তিনি মনে করেন, একটি দল নির্বাচনে না এলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেমে যায় না, বরং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক রূপ নেয়।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) নাটোরে নিজের নির্বাচনী এলাকায় শোভাযাত্রা শেষে লালপুর গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুতুল বলেন, “একটি দল যদি নিষিদ্ধ হয়ে থাকে এবং সেই দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, তবে সেটার কারণে নির্বাচন যে অংশগ্রহণমূলক নয় — এমন প্রতিকূল মূল্যায়ন করা যায় না।
অনেক রাজনৈতিক দল আছে যারা অংশ নেবে। ভোটাররা যদি নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, তাহলেই সেটি হবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কোনো দল এসেছে কি আসেনি, সেটিই অংশগ্রহণের মাপকাঠি নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল গত ১৭ বছর ধরে নির্বাচনের বাইরে ছিল। আমাদের দলে এখন যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই। সবাই আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ছিল। লালপুর–বাগাতিপাড়ায় বরাবরই ষড়যন্ত্র হয়েছে, এবারও কেউ কেউ বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এসব অপচেষ্টা সফল হবে না।”
নিজের পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে পুতুল বলেন, “আমার ভাই ড. ইয়াসির আরশাদ রাজনের নামে যারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তা সম্পূর্ণ অমূলক। আমি আমার ভাই, মা এবং পরিবারের দোয়া নিয়ে প্রচারণায় নেমেছি। এখানে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ লাভবান হবে না।”
মনোনয়ন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার পুতুল বলেন, “সংরক্ষিত নারী আসনের বাইরে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেয়েছি। এটি আমার ত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি। বিএনপি নারী–পুরুষের ভেদাভেদে বিশ্বাস করে না। এই মনোনয়ন প্রমাণ করে, দল যোগ্যতা ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করেছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু হয়েছে। বিএনপি সেই পরিবর্তনের ধারায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমি গর্বিত যে এই পরিবর্তনের যাত্রায় আমি একজন সৈনিক হতে পেরেছি। লালপুর–বাগাতিপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের আশা–প্রত্যাশা পূরণে দল যে ভূমিকা রাখছে, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ পাপ্পু, যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।