বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

দীর্ঘ একযুগ অনিয়ম-দুর্নীতিতে ভরা রাজশাহী জেলা ট্রাক মালিক সমিতির

জয়নাল আবেদিন প্রতিনিধিঃ রাজশাহী জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মো: আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে এখনো অনিয়ম-দুর্নীতি চলোমান। এই বিষয়ে ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘অন্যারা টাকা তুলছে আমরাও তুলছি। ট্রাক মালিক সমিতির তো একটা খরচ আছে আমি কি এই খরচের টাকা বাসা থেকে নিয়ে […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ নভেম্বর ২০২৪, ১৫:১৭

জয়নাল আবেদিন প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মো: আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে এখনো অনিয়ম-দুর্নীতি চলোমান।
এই বিষয়ে ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘অন্যারা টাকা তুলছে আমরাও তুলছি। ট্রাক মালিক সমিতির তো একটা খরচ আছে আমি কি এই খরচের টাকা বাসা থেকে নিয়ে এসে খরচ করবো। এটায় যদি হয় চিত্র তাহলে ৫ই আগষ্টের আন্দোলনের মূল্য কি থাকলো ? দীর্ঘ একযুগ ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি ভরা রাজশাহী জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি যেটা এখনো চলোমান।

আসুন ফিরে দেখি ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের দীর্ঘ (১) যুগ।

দীর্ঘ একযুগ ধরে ট্রাক মালিক সমিতির কোন নির্বাচন হয় নাই। সভাপতি আবুল কালাম আজাদ তার পেশি শক্তি খাঁটিয়ে ও আওয়ামী স্বৈরাচার গত সরকার দলীয় রাজশাহী মহানগরের কিছু নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় অবৈধ ভাবে সভাপতির চেয়ার দখল করে আছেন। আবুল কালাম আজাদ তার প্রভাব খাঁটিয়ে ট্রাক মালিক সমিতিতে কোন নির্বাচন ও করতে দেন নাই।

বিগত আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের শাসন আমলে স্বৈরাচার সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে ও তার চেয়ার ধরে রাখতে নির্বাচন থেকে শুরু করে এমন কোন অনৈতিক কর্মকান্ড নাই যে তিনি স্বৈরাচারী সরকারের কার্যকালাপে সহযোগিতা করেন নাই। এই স্বৈরাচারী কার্যকালাপের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, যখন যে দিক থেকে বৃষ্টি আসে সেদিকে ছাতা ধরে চলি।

তিনি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে স্বৈরাচারী সরকারের সকল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর হয়ে মাঠে কাজ করেছেন। এখন তো স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ নিজেকে বিএনপির নিবেদিত প্রান বলে দাবি করছেন।

আমার প্রশ্ন জাতির বিবেকের কাছে? ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ কি সত্যিই বিএনপি আদর্শের মানুষ ? নাকি সে আওয়ামী মার্কা বিএনপি। ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক দিয়ে

প্রতিদিন (১) এক থেকে সাড়ে ১২ শত যানবাহন চলাচল করে। এই চলাচল রত যানবাহন থেকে চারটি টোকেনের মাধ্যমে প্রতিটি ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক্টর থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা উঠানো হতো ৫ই আগষ্টের আন্দোলনের আগ পর্যন্ত রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকায়।

প্রতিদিন এই রুটে (১) এক থেকে সাড়ে ১২ শত যানবাহন দাঁড় করিয়ে ৭-৮ জন ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এর নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে মাসে অন্তত অর্ধ কোটি টাকা চাঁদা উত্তোলন করান। এই চাঁদা দৈর্ঘ্য (১) এক যুগ ধরে চলোমান ছিল ৫ই আগষ্টের আন্দোলনের আগ পর্যন্ত।

চাঁদা আদায় করে সভাপতি আবুল কালাম আজাদ গড়েছেন কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়।
এতে করে ট্রাক চালক ও মালিকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিলেও এর কোনো সমাধান হয়নি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় ট্রাক টার্মিনালের সামনে ঢাকা-চাঁপাইনাববগঞ্জ ও রাজশাহী নওগাঁ মহাসড়কের পাশে লাঠি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ৭-৮ জন ব্যক্তি। ট্রাক টার্মিনালের সামনে আসামাত্র ট্রাকগুলো লাঠি হাতে নিয়ে ইশারা করে দাঁড় করাচ্ছেন তাঁরা।

এর পর সেই ট্রাক থেকে চারটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে আদায় করা হচ্ছে ১০০ টাকা করে। এর মধ্যে ৩০ টাকার একটি স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজশাহী ট্রাক টার্মিনালের ঠিকাদারের নামে, ৩০ টাকার আরেকটি স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজশাহী জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের নামে, ৩০ টাকার অপর একটি সিল্প ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজশাহী জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির নামে এবং ১০

টাকার একটি স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন পরিচালিত হাসপাতালের উন্নয়ন ব্যায়ের নামে। একইভাবে নগরীর বিআরটিএ ভবনের সামনেও ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংকলরি দাঁড় করিয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছে। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক হয়ে যেসব পন্যবাহী যানবাহন ঢাকার দিকে যাচ্ছে সেসব যানবাহন থেকে এখানে চাঁদা তোলা হচ্ছে।

চাঁদা প্রদানকারী একজন ট্রাক চালক লালন উদ্দিন বলেন,আমার কাছ থেকে গাড়ী দাঁড় করে ১০০ টাকা নিলো। পাথর বোঝাই ট্রাক হঠাৎ দাঁড় করাতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। তার পরেও লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকরা কয়েকটা রশিদ হাতে ধরে দিয়ে টাকা নিল। দিতে না চাইলে গাড়ী যেতে দিবে না তারা। তাই বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতে হয়। এ যে চাঁদা উঠাচ্ছে, এই টাকার মুখ সাধারণ শ্রমকিরা কখনোই দেখতে পাই না। এই টাকা ভাগ হয় শ্রমিক এবং মালিক সমিতির নেতাদের মাঝে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাক ট্রামিনালের নামে চলন্ত ট্রাক থেকে চাঁদাবাজির কোনো এখতিয়ার নাই। তার পরেও জোর করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে আমাদের কাছ থেকে।
অন্য ট্রাক চালক আসগর আলী বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর কয়েক দিন এখানে চাঁদাবাজি বন্ধ ছিল। হঠাৎ করে আবার শুরু হয়েছে। নিশ্চয় প্রশাসন আর নেতাদের ম্যানেজ করে এটি করা হচ্ছে। আমরা এই চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। এখানে টাকা দিয়ে কোনো উপকার নাই।

বরং ট্রাক থামাতে গিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয় আমাদের। প্রতিদিন (১) এক থেকে সাড়ে ১২ শত ট্রাকসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। প্রতিটি পণ্যবাহী যানবাহন থেকেই তারা চারটি টোকেন ধরিয়ে দিয়ে ১০০ টাকা করে চাঁদা তুলছে। কিন্তু এ টাকার হদিশ পাই না আমরা শ্রমিকরা।’

চাঁদা আদায় বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান ও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘রাস্তায় দাঁড় করিয়ে ট্রাক থেকে চাঁদাবাজির নিয়ম নাই। তার পরেও সংগঠন চালানোর জন্য করতে হচ্ছে। আমাদের টাকা শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হয়।’ কিন্তুু বাস্তব চিত্র পুরোটাই উল্টো এই চাঁদার টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক উন্নয়ন ব্যয় হয় না। ব্যয় করা হয় সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এর নিজের উন্নয়নে।

সম্প্রতি বিএনপি দলীয় কিছু নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় ঘরোয়া বৈঠক করছে আবুল কালাম আজাদ তার অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়ে চেয়ার ধরে রাখরার জন্য। এই অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে ট্রাক মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিক সমিতির মিটিংয়ে মালিকদের দীর্ঘ (১) এক যুগ ধরে আয় ব্যয়ের কোন হিসাব নিকাশ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রদান করেন নাই।

তিনি (১) এক যুগ ধরে সে কোন ব্যাংকের হিসাব দেন নাই। আবুল কালাম আজাদ যে নিজেকে বিএনপির নিবেদিত প্রান বলে দাবি করছেন এই বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির তিনি কেউ নয়।

আবুল কালাম আজাদ রাজশাহী মহানগর বিএনপির কখনো কোন পদে ছিলো না। ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের দোষর। তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে স্বৈরাচারী সকল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর হয়ে মাঠে কাজ করেছেন।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।