মোঃ তারেক রামগঞ্জ প্রতিনিধি
রামগঞ্জ উপজেলার পানিওয়ালা থেকে টিউরি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার খালে ছোট বড় ৫০ টি বাঁধ রয়েছে। বাড়ির রাস্তা ও ফসলী মাঠ থেকে ইট ভাটিতে মাটি আনা নেয়ার জন্য এসব বাঁধ দিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এছাড়া খালটির কমার রোড ও দুধরাজপুর বাজার অংশ পুরোটা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করেছেন তারা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এসব বাঁধ ও দোকান ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।। খালি এসব বাঁধ নির্মাণের ফলে সাম্প্রতিক অতি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হচ্ছে ধীরগতিতে। ফলে খালটির পার্শ্ববর্তী ৯ নং ভোলাকোট ও ১০ নং ভাটরা ইউনিয়নের টিওরি, দুধরাজপুর, আকরতমা, বিহারীপুর, হিরাপুর, দক্ষিণ ভাটরা, নল চড়া গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জলাবদ্ধতার সমস্যা কাটছেই না। এতে ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ, দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষক।
সারা জমিনে গিয়ে দেখা যায় ২ কিলোমিটার খালে মাটি দিয়ে ভরাট করা ৫০ টির ও বেশি বাঁধ রয়েছে। কেউ কেউ পাকা করেছেন। বাঁধের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। ফলে ফসলের মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।ঘরবাড়িতেও পানি উঠে যায়। আবার শুকনো মৌসুমে বাঁধ থাকার কারণে সেঁচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না।
টিউড়ি গ্রামের বৃদ্ধ ইসমাইল হোসেন (৮০) বলেন ছোটবেলা থেকে খালটি দেখে আসছি আগে এখানে খুব স্রোত ছিল। নদী থেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ আসতো। সবাই মাছ ধরতো। খালের পানি দিয়ে নল চরা, টিউরি, আকরতমা মাঠে চাষাবাদ হতো। ২০ বছর আগে থেকে মানুষ খালে বাঁধ দেওয়া শুরু করছে। অনেকে খালের সাথে টয়লেটের লাইন ও দিয়েছে। এখন আর স্রোত নেই, মাছ নেই, শুকনো মৌসুমে পানির অভাব, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, ও ময়লা পানির কারণে খালটি এখন মানুষের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে।
আকরতমা গ্রামের হারুন মিয়া জানান, প্রশাসন যদি দখলকারীদের নিকট থেকে খালটি উদ্ধার না করে তবে কয়েক বছর পর এ খালের অস্তিত্বই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। স্থানীয় কৃষক ইউসুফ ও আব্দুল মান্নান বলেন প্রশাসন যদি খালের মধ্যে থাকা বাঁধগুলো কেটে দেয় তাহলে এই পানির সমস্যা সমাধান হবে এবং কৃষক চাষাবাদ করতে পারবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, খালে যে বাঁধ আছে তা কেউ অভিযোগ করেনি। দ্রুত ই তা সনাক্ত করে কাটার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।