সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুরে চলমান তীব্র গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছে সাধারণ জনজীবন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা, বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম, আর যাদের জীবিকা রোদে-ঘামে খাটার ওপর নির্ভর করছে, তাদের কষ্ট যেন সীমাহীন।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় গত কয়েকদিন যাবৎ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এই বিরামহীন ভ্যাপসা গরমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম থেকে শুরু করে কৃষিকাজ, যানবাহন চালানো কিংবা দিনমজুরির কাজে নামা—সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ পড়েছে মারাত্মক ভোগান্তিতে।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ধানক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “গরমে মাঠে নামাই যায় না। সকাল বেলা কিছুক্ষণ কাজ করি, তারপর আর শরীর টেকে না। কিন্তু কাজ না করলে জমির ক্ষতি হবে, আবার সংসারও চলবে না।”
অন্যদিকে, গাড়িচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “গরমে গাড়ি চালাতে কষ্টের সীমা নেই। গরম বাতাসে যাত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়ে, আমরাও ঘেমে নাওয়া-খাওয়া ভুলে যাই।”
বাজারে আসা গৃহিণী তানিয়া আক্তার বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে বের হওয়া যায় না। অল্প সময় বাইরে থাকলেই মাথা ঘোরে, শরীর খারাপ হয়।”
দিনমজুর রমজান আলীর বেদনা আরও গভীর। তিনি বলেন, “পেটের দায়ে রোদে খাটতেই হচ্ছে। না খাটলে ঘরে ভাত উঠবে না। কিন্তু দুপুরের রোদে দাঁড়িয়ে কাজ করা মানে মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ।”
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক নাগরিকরা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মধ্যে আছেন। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, রোদে বের হলে ছাতা ব্যবহার এবং দুপুরের প্রখর রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।