সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর জেলায় ১ হাজার ৮৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৩৮টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষাদানও ব্যাহত হচ্ছে। সহকারি শিক্ষকরা এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্লাসে পাঠদানে মনোযোগ হারাচ্ছেন।
দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩টি উপজেলায় ১ হাজার ৮৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৯৩৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সদর উপজেলায় ১৮৬টির মধ্যে ৫৪টি, কাহারোল উপজেলার ১২০টির মধ্যে ৭১টি,খানাসামা উপজেলায় ১৪৩টির মধ্যে ৬৭টি, ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৬৭টির মধ্যে ৪১টি, চিরিরবন্দর উপজেলায় ১৯৮টির মধ্যে ১১৫টি,
নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১৪৯ টির মধ্যে ৭৫টি, পার্বতীপুর উপজেলায় ২০৬টির মধ্যে ১০৫টি, ফুলবাড়ী উপজেলায় ১০৯ টির মধ্যে ৬৫টি, বিরল উপজেলায় ১৬৭টির মধ্যে ৮০টি, বিরামপুর উপজেলায় ১১৬টির মধ্যে ৬৮টি, বীরগঞ্জ উপজেলার ২৩০টির মধ্যে ১১৮টি, বোচাগঞ্জ উপজেলায় ১৩২টির মধ্যে ৫৯টি ও হাকিমপুর উপজেলায় ৪৬টির মধ্যে ২০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী, ৩৫ শতাংশ প্রধান শিক্ষক সরাসরি নিয়োগ হয় ও ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে হয়। বর্তমানে সরাসরি নিয়োগ হওয়া প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই অবসরে চলে গেছেন। অন্যদিকে মামলার কারণে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. মতিয়ার রহমান জানান, যারা ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করছেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের পদোন্নতি না দিয়ে নতুনদের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। আইনি জটিলতার কারণে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ফলে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগতমান ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সদিচ্ছাই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এরই মধ্যে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় সহকারী শিক্ষকরা হতাশ হয়েছেন। তার মতে অবিলম্বে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শতভাগ পদোন্নতি দেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মামলা নিষ্পত্তি হলে পদোন্নতির মাধ্যমে এসব শূন্যপদ পূরণ করা যাবে।