রবিউল ইসলাম বগুড়া শিবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায়। কার্যালয়টির আশেপাশে ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ। নেই কোন সংস্কার।ভেতরে দুর্গন্ধ আর ময়লার ভাগার। এক কথায় ভুতুড়ে ভবনে পরিণত হয়েছে। দূর থেকে দেখে মনে হয় ভূতের বাড়ি।মোবাইল ফোন আসার আগে এক সময় উপজেলার মানুষের ভরসা ছিল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিস।
দেশ এবং দেশের বাহিরে যারা অবস্থান করতেন তাদের পরিবারের লোকজন রাত কিংবা দিন এখানে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতেন। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের কাজ।বর্তমান সময়ে সবার হাতে মোবাইল ফোন থাকার কারণে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসে নেই কোন কোলাহল।
মোবাইলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় টেলিফোনের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। গ্রাহক সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিবগঞ্জ টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসটি জরাজীর্ণ ভবনে অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,টেলিফোন এক্সচেঞ্জ কার্যালয়ের চারপাশে ঝোপঝাড়ের কারণে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।ভবনে প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে দেওয়ালের প্লাস্টার। দরজা জানালা ভাঙ্গা।ভবনের উপরের দিকে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দায় সেরেছে।সাইনবোর্ডে লেখা শিবগঞ্জ ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভবন।
কিন্তু ডিজিটালের কোন ছোঁয়া লাগেনি। অফিসটির যায়গার পরিমাণ ৭৮ শতাংশ। বর্তমানে ওই অফিসে দুই জন কর্মরত রয়েছেন। একজন ওয়ারম্যান অন্যজন মাস্টার রোলে চাকরি করছেন। তিনি অফিসের একটি রুমে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।তাদের দাবী সেখানে ৪৭ টি সংযোগ রয়েছে।
পৌর এলাকার বানাইল গ্রামের জামিনুর রহমান শিপ্লু চৌধুরী বলেন,উপজেলা টেলিফোন এক্সচেঞ্জের অধীন আমাদের টেলিফোন সংযোগ ছিল। প্রযুক্তির পরিবর্তন হওয়ার কারণে গ্রাহকের টেলিফোনে আগ্রহ কমেছে। সহজে সংযোগ, অল্প খরচে কথা বলার সুযোগ এবং সহজে বহনযোগ্য হওয়ার কারণে টেলিফোন আর কাজে লাগে না। তাই টেলিফোনের পরির্বতে মোবাইল ফোনই কথা বলার শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে গ্রহণ করেছি।
এদিকে সচেতন মহলের প্রত্যাশা, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ একে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।সেজন্য দ্রুত ভবনটি সংস্কার করে জনবল বাড়ানো, গ্রাহক সেবা সহ মানুষের হাতের নাগালে সহজ লভ্য নতুন প্রযুক্তি দিয়ে উদ্যোগ নিলে আবারও নতুন করে গ্রাহক সৃষ্টি হবে। তাহলে বিটিসিএল লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে