সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
প্রেম মানে না কোন বাঁধা। এমনই আরও একটি প্রেমের ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চীন থেকে বাংলাদেশে আসলেন ইয়ং সং সং (২৬)। এই ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ১০ নং রাণীপুকুর ইউপি’র কাজিপাড়া শিমুলতলা গ্রামে।
এক বছর আগে বাংলাদেশি তরুণী সুরভী আক্তারের (১৯) সঙ্গে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল চীনা নাগরিক ইয়ং সাং সাংয়ের। মোবাইলের গুগল ট্রান্সলেটের মাধ্যমে চলতে থাকে কথা-বার্তা। আস্তে আস্তে সেটি রূপ নেয় ভালোবাসায়। আর সেই ভালোবাসার টানে বাংলাদেশের দিনাজপুরে এসেছেন চীনা নাগরিক ইয়ং সাং সাং (২৬)। এমনকি সেই ভালোবাসার জন্য নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন তিনি। বাংলাদেশি তরুণী সুরভী আক্তারকে বিয়ে করেছেন।
দম্পতি এখন দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার কাজীপাড়া শিমুলতলী এলাকায় বসবাস করছেন।
জানা গেছে, প্রেমিক যুবক ইয়ং সং সং (২৬) পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার (নির্মাণ)। তার বাড়ি চীনের জিয়াংসু প্রদেশে। তার বাবা মৃত ইউয়ান সিকি এবং মা লিউ ফেনহং।
আপরদিকে ,সুরভী আক্তার বিরল উপজেলার রাণীপুকুর ইউপির কাজিপাড়া শিমুলতলা গ্রামের অটোচালক নুর হোসেন বাবু ও গৃহিনী সাথী আক্তারের মেয়ে। সুরভীরা দুই বোন।
আশপাশের গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশু-বয়স্ক সবাই এসেছেন চীনা জামাইকে দেখার জন্য। চীনা নাগরিককে নিজ গ্রামের জামাই হিসেবে দেখে খুশি গ্রামের সাধারণ মানুষ। সবার মধ্যে আগ্রহ, কেউ কেউ কথা বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইয়ং মোবাইলে ট্রান্সলেট করে তার উত্তর দিচ্ছেন। কেউ কেউ সেলফি ও ভিডিও করছেন। চীনা জামাই ও বাংলাদেশি মেয়ের মুখে হাসি আর খুশির ঝলক। আদর আর আপ্যায়ন যেন কমতি নেই কিছুতেই।
সুরভী আক্তার বলেন, হ্যালো ট্যাগ নামে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয়। সেখানে আস্তে আস্তে আমাদের কথা চলে, পরিচয় রূপ নেয় ভালোবাসায়। আমাদের এই সম্পর্ক এক বছর ধরে। পরে সে বাংলাদেশে এসে আমাকে বিয়ে করতে চায়। আমি তাকে জানাই, যদি আমার ধর্ম গ্রহণ করতে পারো তাহলে আমি তোমাকে বিয়ে করতে রাজি আছি। পরে সে বাংলাদেশে আসে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। এখন আমি তাকে বিয়ে করেছি। আমার পরিবার ও এলাকাবাসী অত্যন্ত খুশি।
সুরভীর বাবা নুর হোসেন বাবু বলেন, আমার দুইটা মেয়ে। তারা ঢাকায় মায়ের সাথে থাকে। সুরভীর সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছেলেটার যোগাযোগ হয়। পরে ছেলেটা দেশে এসে তাকে বিয়ে করে।