মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে বঞ্চিত আমতলী-তালতলীসহ উপকূলীয় জনপদ

নির্বাচন কমিশন বরগুনার জেলার মানুষের অধিকার বঞ্চিতের কথা বিবেচনায় এনে ৩টি সংসদীয় আসন ফিরিয়ে দিবেন কিন্তু তারাও আমাদের সঙ্গে বৈষম্যমুলক আচরণ করলেন। তিনি আরো বলেন, খসরা তালিকা প্রকাশ করলেও বরগুনা জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন নির্বাচন কমিশন বিবেচনায় নিবেন

নিউজ ডেস্ক

০১ আগস্ট ২০২৫, ০০:১৫

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা

বরগুনা জেলার সংসদীয় তিনটি আসন পুর্নবহাল না করায় ক্ষুব্দ জেলার ১২ লাখ মানুষ। নির্বাচন কমিশনকে এ সংসদীয় আসন পুর্নবহালের দাবী জানিয়েছেন তারা।

জানাগেছে, বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপকুলীয় বরগুনা জেলা ছয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। আয়তন ১৮৩১.৩১ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ১২ লক্ষ ১০ হাজার ৫৩০ জন। বরগুনা জেলার ছয়টি উপজেলাকে পায়রা (বুরিশ্বর) ও বিশখালী নদীতে বিভক্ত করে রেখেছে। পায়রা নদীর পুর্ব পাড়ে আমতলী ও তালতলী উপজেলা। পশ্চিম দিকে বরগুনা সদর ও বেতাগী উপজেলা। বিশখালী নদীর পশ্চিম দিকে পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা। স্বাধীনতার পর থেকে বরগুনা জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন ছিল। তৎকালীন সরকার বাহাদুর পায়রা ও বিশখালী নদীর ওপর ভিত্তি করে অবহেলিত বরগুনা জেলাকে তিনটি সংসদীয় আসনে বিভক্ত করেছেন। বরগুনা সদর ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-১ আসন, পাথরঘাটা ও বামনা নিয়ে বরগুনা-২ আসন এবং আমতলী ও তালতলী নিয়ে বরগুনা-৩ আসন। সমবন্ঠনের মাধ্যমে চলছিল তিনটি সংসদীয় আসনের উন্নয়ন। কিন্তু ২০০৮ সালে সেনা শাসিত তত্বাবধায়ক সরকার সরেজমিনে পরিদর্শন না করেই একটি দলকে সুবিধা দিতে পরিকল্পিতভাবে বরগুনা জেলার তিনটি সংসদীয় আসনকে ভেঙ্গে দুইটি সংসদীয় আসনে বিন্যাস্ত করেন। বরগুনা সদর, আমতলী, তালতলী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-১ আসন এবং পাথরঘাটা, বেতাগী ও বামনা উপজেলা নিয়ে বরগুনা-২ আসন গঠন করা হয়। এতে উন্নয়ন বঞ্চিত হয়ে পরে সর্ব দক্ষিণের উপকুলীয় অঞ্চল আমতলী-তালতলী উপজেলার চার লাখ মানুষ। বর্তমানে বরগুনা-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাভ ৫৭ হাজার ৮৭৪ এবং বরগুনা-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাভ ৭০ হাজার ৫৩০ জন। এর মধ্যে আমতলী ও তালতলীতে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ ভোট।

বরগুনা- ১ আসনের (বরগুনা সদর- আমতলী-তালতলী) এ তিনটি উপজেলার মধ্যে প্রমত্তা পায়না নদী প্রবাহমান। যার দৈঘ্য ৯০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৪ কিলোমিটার। বরগুনা-২ আসনের ( পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) এ তিনটি উপজেলার মধ্যে প্রবাহমান বিষখালী নদী। নদীর কারণে নির্বাচনকালীন সময়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ছয়টি জেলার দুইটি সংসদীয় আসনের ভোট গ্রহনে হিমসীম খেতে হয়। ফলে নির্বাচনের গ্রহন যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। বরগুনা জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন পুর্নবহালের দাবীতে নির্বাচন কমিশনে পাঁচটি আবেদন করেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বরগুনা জেলার আসন পুর্নবহালের কোন দিকই আমলে না নিয়ে খসরা তফসিল প্রকাশ করেছেন। এতে বরগুনা জেলার সংসদীয় আসনে কোন পরিবর্তন আনেননি। এতে ক্ষুব্দ হয়েছেন বরগুনা জেলার ১২ লাখ মানুষ। তারা নির্বাচন কমিশনকে বরগুনা জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে উন্নীত করনের দাবী জানিয়েছেন।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার বাড্ডা ইউনিটে নেতৃত্ব দেয়া তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আমিনুল ইসলাম লিটন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বরগুনা জেলায় তিনটি আসন ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে সেনাশাসিত তত্ত¡ারধায়ক সরকার আওয়ামীলীগকে সুবিধা দিতে বরগুনা জেলা থেকে বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসন বিলুপ্তি করে দুইটি আসনে করেন। এতে বরগুনার জেলার মানুষ চরমভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। ভেবেছিলাম নির্বাচন কমিশন এ বছর আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দিবেন কিন্তু তারাও আমাদের অধিকার নিয়ে খেলা করেছেন।

আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, আশা করেছিলাম নির্বাচন কমিশন বরগুনার জেলার মানুষের অধিকার বঞ্চিতের কথা বিবেচনায় এনে ৩টি সংসদীয় আসন ফিরিয়ে দিবেন কিন্তু তারাও আমাদের সঙ্গে বৈষম্যমুলক আচরণ করলেন। তিনি আরো বলেন, খসরা তালিকা প্রকাশ করলেও বরগুনা জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন নির্বাচন কমিশন বিবেচনায় নিবেন।

বরগুনা প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি অ্যাড. মোস্তফা কাদের বলেন, বরগুনা জেলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠির বসবাস। এ জনগোষ্ঠিকে উন্নয়নের মুল ধারায় আনতে হলে বরগুনা জেলার তিনটি সংসদীয় আসন বিন্যাসের প্রয়োজন ছিল। নির্বাচন কমিশনকে বরগুনা জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন পুর্নবহালের দাবী জানান তিনি।

আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ তুহিন মৃধা বলেন, ২০০৮ সালে সেনা শাসিত তত্বাবধায়ক সরকার সরেজমিনে পরিদর্শন না করেই আওয়ামীলীগ দলকে সুবিধা দিতে বরগুনা-৩ আসনকে বিলুপ্ত করে বরগুনা-১ আসনের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়। আর বর্তমান নির্বাচন কমিশনই একই কাজ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে বরগুনা-৩ আসন ফিরে পাওয়ার দাবী জানান তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট গাজী মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভৌগলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন বরগুনা জেলার সংসদীয় তিনটি আসন পুর্নবহাল করবেন বলে আশা করেছিলাম কিন্তু তারাও আমাদের বঞ্চিত করলেন। নির্বাচন কমিশন খসরা তালিকা প্রকাশ করলেও বরগুনা জেলার তিনটি সংসদীয় আসন পুর্নবহাল করবেন বলে বিশ্বাস করি।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের এপিএস আমতলী-তালতলী উপজেলার গণ মানুষের নেতা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, বরগুনা জেলার সংসদীয় তিনটি আসন পুর্নবহাল না করে নির্বাচন কমিশন ১২ লাখ মানুষের অধিকার হরন করেছেন। উপকুলীয় মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়েও নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল বরগুনা জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন পুর্নবহাল করা। তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের গ্রেজেটে উল্লেখ আছে ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক সুবিধার বিবেচনায় বরগুনা জেলার তিনটি সংসদীয় আসন থেকে বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসন বিলুপ্তির কোন যুক্তি নেই। কিন্তু তারা সেই গেজেটও আমলে নেয়নি।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।