জিয়াউর রহমান,পিরোজপুর প্রতিনিধি:
১৪ বছর আগে গুম ও গুপ্ত হত্যার শিকার হওয়া পিরোজপুরের কাউখালীর ব্যবসায়ী নাজমুল হক মুরাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে কবর থেকে দ্বিতীয়বারের মতো লাশ উত্তোলন করে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে প্রশাসন।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে কাউখালীর পার সাতুরিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির অনুরোধে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।
উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নূর খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইসতিয়াক আহমেদ, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান এবং নিহত মুরাদের ভাই মিরাজুল ইসলাম।
জানা যায়, ২০১১ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার উত্তরা থেকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় ব্যবসায়ী মুরাদ, রাজাপুরের মিজান ও ফোরকানকে। ১০ দিন পর ২৭ এপ্রিল তুরাগ নদীর তীরে বালুর নিচে বস্তাবন্দি তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করে নিজ নিজ এলাকায় দাফন করেন।
ওই সময় মুরাদ ও মিজান ছিলেন কাউখালীর আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন খান মাসুদ হত্যা মামলার আসামি। মামলার বাদির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালের জুনে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মুরাদ ও মিজানের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। পরে ৪ জুলাই মুরাদের প্রথম দফা লাশ উত্তোলন করে ডিএনএ পরীক্ষায় জানানো হয়—উদ্ধারকৃত লাশ মুরাদের নয়।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের জীবিত দেখিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। কিন্তু এরপর থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও নাজমুল হক মুরাদের প্রকৃত ভাগ্য ও মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
সম্প্রতি মুরাদের মেঝো ভাই মিরাজুল হক লিপু গুম সংক্রান্ত কমিশনে আবেদন করেন। পরে কমিশনের দুই সদস্য চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল কাউখালীতে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুনরায় ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।