রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ঘাটাইলে বিএনপির এক নেতার সমর্থকদের পেটালো আরেক নেতার সমর্থকেরা

মো:ফারুক আহমেদ, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ  টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার সমর্থকদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে আরেক নেতার সমর্থকেরা। এতে গুরুত্বর আহত হয়ে টাঙ্গাইল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচজন। ২৩শে জুলাই বুধবার সন্ধায় উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, এলাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তারকে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ জুলাই ২০২৫, ২০:৩৮

মো:ফারুক আহমেদ, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার সমর্থকদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে আরেক নেতার সমর্থকেরা। এতে গুরুত্বর আহত হয়ে টাঙ্গাইল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচজন।

২৩শে জুলাই বুধবার সন্ধায় উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। জানা যায়, এলাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম সমর্থক এবং সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি ফেসবুকে স্ট্যাটাস এবং একাধিক মিটিং এর আয়োজন করে আক্রমানাত্তক বক্তব্য প্রদান করলে সেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরই জের ধরে বুধবার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটলো। 

হামলায় আহত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক নেতা মজিবুর রহমান মাসুম, আনোয়ার হোসেন (৪৫), হাফিজ উদ্দিন (৬২), নান্নু মিয়া (৫৫) প্রমুখ। তাঁরা সবাই বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলামের কর্মী ও সমর্থক। 

সন্ত্রাসী এ ঘটনায় স্থানীয় মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে জালাল উদ্দিন মেম্বার (৫৫), মোফাজ্জল হোসেন (৩৮), আল মামুন (৩৩), জালাল উদ্দিনের ছেলে বিদ্যুৎ মিয়া (২৮), মোফাক হোসেনের ছেলে মুরাদ হোসেন (২৩), ছামাদের ছেলে জিয়াউর রহমান (৪২) সহ ১৫ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা

আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে ঘাটাইল থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা সবাই সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদের সমর্থক বলে জানা গেছে। 

স্থানীয়রা আরও জানায়, সাগরদীঘি ইউনিয়নের মালিরচালা গ্রামের দুলাল উদ্দিনের ছেলে মজিবুর রহমান মাসুম নিজেকে ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দাবী করে গত ২১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার নিজস্ব আইডি থেকে প্রদত্ত একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে স্থানীয় রাজনিতিক জালাল মেম্বারের নানামুখী সমালোচনা করেন। 

স্ট্যাটাসটিতে মাসুম লিখেন,“স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালানোর পর তার (জালাল মেম্বার) কিছু সুনামের কথা বলি। প্রথম সুনাম-সাগরদিঘী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক এবং সাবেক মেম্বার খলিল ভাইকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর।

তারপর জোরদিঘির গোলাম মোস্তফাকে সাগরদিঘী চৌরাস্তায় ফেলে মারধর। তারপর হাতিমারার হালিম ভাই এবং তার ছেলের সাথে কি কারনে মাথা ফাটাফাটি হয়েছিল সেই ঘটনা কমবেশি সবাই জানে।“ 

তিনি লিখেন, “এই জালাল মেম্বার কয়েক মাস আগে আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকার একজনকে কু পরামর্শ দিয়ে আমার নামে মামলা করিয়েছে।“ এছাড়াও মাসুম ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসে জালাল মেম্বারের নামোল্লেখ করে আরও নানান সমালোচনা করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জালাল মেম্বারের অনুসারিরা একতরফাভাবে হামলা চালিয়ে তাদেরকে বেধড়ক পিটিয়ে মাথা, হাত ও পাঁজরে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। আহত মজিবুর রহমান মাসুমের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন,

সাগরদীঘি এলাকায় বুধবার বিকেলে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে সেখানে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ জালাল মেম্বারের নেতৃত্বে তার অনুসারিরা হামলা করে পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। এ বিষয়ে জালাল মেম্বার বলেন, ঘটনার সময় আমি জেলা সদর টাঙ্গাইলে ছিলাম।

সেখান থেকে শুনতে পেরেছি সাগরদীঘিতে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আমার কোন সম্পৃক্ততা নাই। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম বলেন, জালাল মেম্বারের ইন্ধনে সাগরদীঘিতে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

এতে মাসুম সহ কয়েকজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। আমরা এই ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ সমর্থক একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাসুম সহ কয়েক বিএনপি সমর্থককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় আমরা উদ্দিগ্ন।

এছাড়া জালাল মেম্বারের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও নানান অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা দলীয়ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সাগরদীঘি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম বলেন,

মারামারির ঘটনায় আমাদের বিএনপির কোন লোকজন জড়িত নয়। যারা মারমারি করেছে তাদের বিএনপিতে কোন পদপদবীও নাই। তাঁরা নিজেদেরকে বিএনপির সমর্থক দাবী করে ব্যক্তি পর্যায়ের কোন নেতার সমর্থন ও ইন্ধনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে।

আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছি। ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মোশাররফ হোসেন (ওসি) বলেন,

সাগরদীঘিতে একটি মারামারির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে জরুরী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।  

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।