মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আড়ালিয়া গ্রাম সংলগ্ন নদীতে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছে এক চাঁদাবাজ। এ সময় কৌশলে পালিয়ে যায় আরো কয়েকজন চাঁদাবাজ।
সোমবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রাম সংলগ্ন নদীতে এই ঘটনা ঘটে।
আটকৃত নৌ চাঁদাবাজের নাম শাকিল (৩৮)। সে গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামের আব্দুল ওহাব মিয়ার ছেলে। সে চাঁদাবাজ ইব্রাহিম-চাঁন বাদশা গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকাল এগারোটার দিকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে নদীতে চাঁদাবাজি করতে যায় ৪/৫জন চাঁদাবাজ।
এসময় নৌযান থেকে চাঁদা তোলার সময় স্থানীয়রা ট্রলার নিয়ে তাদের ধাওয়া দিলে শাকিল নামে এক নৌ চাঁদাবাজ আটক হয়। এসময় কৌশলে পালিয়ে যায় আরো কয়েকজন। জব্দ করা হয় চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত ট্রলারটি। পরে স্থানীয়রা তাকে পুলিশে সোপর্দ করে।
বিষয়টি সম্পর্কে বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ০৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিসির আলী বলেন, ‘ দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি আড়ালিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা মেঘনার শাখা নদীতে চাঁদাবাজি করে আসছিল। এদের অপকর্মের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল।
আজকে জনতার হাতে একজন আটক হয়েছে। আমরা আশা করব এই চক্রের বাকি সদস্যরাও দ্রুত আটক হবে’।
স্থানীয় বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মেঘনার শাখা নদীতে নৌযান থেকে চাঁদা আদায় করছিল। প্রতিটি নৌযান থেকে ৩০০-৮০০ পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হতো।
যদি কেউ তাদের চাহিদা মত টাকা দিতে না চাইতো তবে তাকে মারধর করা হতো। নৌযান চালকদের রীতিমতো জিম্মি করে ফেলেছিল তারা’।
এদিকে জনতার হাতে আটক নৌ চাঁদাবাজ শাকিল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘ আমি ঘাস কাটতে গিয়েছিলাম, ভুল বুঝে জনগণ আমাকে আটক করে। আমি চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত নেই। আমার অপরাধ আমি ইব্রাহিম ও চাঁন বাদশার সাথে ঘোরাফেরা করি’।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন,’এরকম একটি খবর আমিও পেয়েছি। খবর মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানো হয়েছে।