রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ
বঙ্গোপসাগরের নিষিদ্ধ মাছ পরিবহনের নিরাপদ সড়ক আমতলী পয়েন্ট। ট্রাফিক, কোষ্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের ঢিলেঢালা নজরদারীর কারনে প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবহন গাড়ীতে অনায়াসে ঢাকায় মাছ যাচ্ছে। ফলে সাগরে সরকার মাছ শিকার নিষিদ্ধ করলেও তা বন্ধ হচ্ছে না।
দ্রত পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী পয়েন্টে ট্রাফিক, কোষ্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারী বৃদ্ধি এবং চেক পোষ্ট বসানোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
জানাগেছে, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন ৫৮ দিন সাগরে সকল ধরনের মাছ শিকার, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন সরকার। কিন্তু সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে উপকুলীয় অঞ্চল মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা, তালতলীর অসাধু ব্যবসায়ীরা উপজেলার মৎস্য বিভাগ, কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও প্রশাসন ম্যানেজ করে জেলেদের দিয়ে সাগরে মাছ শিকার করাচ্ছেন এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
অসাধু ব্যবসায়ীরা কুয়াকাটা, কলাপাড়া, তালতলী ও ফকিরহাট বাস স্ট্যান্ডে ওই মাছ ডোলে করে ইসলাম, মিজান, আলিফ, অন্তরা, ইটালী, হাসান ও যমুনাসহ বিভিন্ন পরিবহন গাড়ীতে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা ও তালতলী এই তিন সড়কের মধ্যস্থান আমতলী চৌরাস্তা। ওই সকল সড়কের পরিবহনগুলো আমতলী হয়ে যেতে হয়।
আমতলী ছাড়া এ সকল পরিবহন গাড়ী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে দাবী করেন গাড়ী চালক নজরুল ইসলাম। প্রতিদিনই এ সড়ক হয়ে বঙ্গোপসাগরে নিষিদ্ধ শিকার করা মাছ পরিবহনে যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে মাছ আহরনের পরিবহন গাড়ীগুলো আমতলী পয়েন্ট ত্যাগ করা শুরু করে, চলে গভীর রাত পর্যন্ত।\
ওই সময় সড়কে ট্রাফিক পুলিশ থাকার কথা থাকলেও কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তারা সড়কে থাকে না। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাফিক পুলিশ ম্যানেজ করে ব্যবসায়ীরা রাতে মাছ পরিবহনের গাড়ী গুলো আমতলী অতিক্রম করছে। ফলে অনায়াসে তারা আমতলী পয়েন্ট ত্যাগ করতে পারে। তবে এমন অভিযোগ ট্রাফিক বিভাগ অস্বীকার করছেন। মাঝে মধ্যে দুই একদিন মাছসহ পরিবহনগাড়ী প্রশাসনের কব্জায় ধরা পড়লেও তা অত্যান্ত প্রতুল বলে জানান রুবেল মিয়া।
এ সড়কে মাছ পরিবহন বন্ধ করতে হলে ট্রাফিক টহল, কোষ্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনকে সজাগ হতে হবে। মাছ আহরনের পরিবহন বন্ধ করতে না পারলে সাগরে মাছ শিকারও বন্ধ হবে না বলে আরো দাবী করেন তিনি।
অপর দিকে সাগরে মাছ শিকার নিষিদ্ধের ৩৮ দিন পেরিয়ে গেলেও আমতলী উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ তিন দিনে মাত্র তিনটি পরিবহন গাড়ী থেকে ৪১ মণ মাছ জব্দ করেছে। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের কোন তৎপরতা নেই। অভিযোগ রয়েছে তালতলীর ফকিরহাটে কোষ্টগার্ডের ক্যাম্প।
তাদের সামনের সড়কে সাগর থেকে জেলেদের শিকার করা মাছ ব্যবসায়ীরা পরিবহন গাড়ীতে তুলে দিচ্ছেন কিন্তু তারা নির্ভিকার। আরো অভিযোগ রয়েছে কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও তালতলী উপজেলা মৎস্য বিভাগ ম্যানেজ করেই জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করছেন।
অপর দিকে তালতলী অফিসের সামনেই বাস স্ট্যান্ড। তাদের নাকের ডগায় ব্যবসায়ীরা পরিবহন গাড়ীতে মাছের ডোল তুললেও তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দ্রত
ত পটুয়াখালী, কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী পয়েন্টে চেকপোষ্ট বসিয়ে পরিবহন তল্লাশীর দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
জেলে সুলতান, রফেজ ও আবুল বাশার বলেন, ব্যবসায়ীরা মাছ শিকার করতে সাগরে পাঠায়, তাই সাগরে মাছ শিকার যাই। সাগরে কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ আমাদের মাছ শিকার করা দেখেও তো কিছুই বলে না।
তালতলী নিদ্রাসকিনা কোষ্টগার্ড ষ্টেশনের ইনচার্জ সুজা উদ্দিন মাহমুদ এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ওই ষ্টেশনের গোয়েন্দা বিভাগের হাবিবুর রহমান বলেন, তথ্য পেলে আমরা সাগরে অভিযান পরিচালনা করি।
ফকিরহাটে যে মাছ উঠছে তা সাগরের মাছ নয়, নদীর মাছ। সাগরের মাছ পরিবহন গাড়ীতে আপনাদের সামনে থেকেই নিয়ে যাচ্ছে, আপনারা কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। ইনচার্জ সুজাউদ্দিন মাহমুদ স্যারে বলতে পারবেন।
তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মখর্তা ভিক্টর বাইনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাশ বলেন, গত মাসের আইন শৃংখলা সভায় সাগরে মাছ শিকার নিষিদ্ধের ৫৮ দিন পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী চৌরাস্তায় চেকপোষ্ট বসার অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ রাজি হয়নি। তিনি আরো বলেন, আমার দপ্তরে সেই রকম জনবল নেই, যে অমি চেক পোষ্ট বসাবো। ফলে পরিবহন আটকে মাছ জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে না।
আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, মৎস্য বিভাগ চেক পোষ্ট বসিয়ে পুলিশ চাইলেই আমি পুলিশ দিতে পারি। কিন্তু তারাতো চেক পোষ্টই বসায় না। আমি কোথায় পুলিশ পাঠাবো? পরিবহন গাড়ীর মাছ চেক করতে, তারাই চেক পোষ্ট বসাবেন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তারেক হাসান বলেন, মাছ পরিবহন বন্ধে দ্রæত চেক পোষ্ট বসানো হবে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে সামদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়েছে। চেক পোষ্ট বসিয়ে অভিযান আরো জোরদার করা হবে।