নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনায় বিআরটিএ অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান পরিচালনা করেছে। বুধবার বেলা এগারোটা থেকে দুপুর পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বিআরটিএ অফিসের সামনে সড়কের পাশে বিভিন্ন কম্পিউটার দোকানে অভিযান পরিচালনা করে দুদক টিম।
অভিযানে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার বিষয়টি জানিয়েছেন দুদক এর সহকারী পরিচালক। তবে প্রমাণের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করার অজুহাতে এড়িয়ে যান দুদক টিম।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন পেতে দালাল চক্রের সহযোগিতা নিতে হয় এমন একাধিক অভিযোগ পায় ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশন। অন্যথায় নানান নিয়মের বেরাজালে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনকারীরা উত্তীর্ণ হতে পারেন না।
বুধবার ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নেত্রকোনা বিআরটিএ অফিসে অভিযান পরিচালনা করে।
এ বিষয়ে অফিসের নথিপত্র যাচাই বাছাই করা শেষে কার্যালয়ের সামনে কুরপাড় এলাকার শাহ সুলতান সড়কের বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন দুদক টিম।
ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনকারী একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি এ পর্যন্ত তিনবার মোটরসাইকেল ড্রাইভিং এর জন্য পরীক্ষা দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত উত্তীর্ণ হতে না পেরে ড্রাইভিং এর লাইসেন্স পাইনি।
তবে আমার সাথে আবেদনকারী বেশ কয়েকজন বলেছেন কোন লোকের (দালালের) মাধ্যম হয়ে আসলে লাইসেন্স পাওয়া যাবে।
এমনকি আমার সাথে আবেদনকারী কয়েকজনের সাথে পরে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন। এই অফিসটা পুরোপুরি দালালদের নিয়ন্ত্রণে চলে।
নেত্রকোনা বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জি এম নাদির হোসেন বলেন, ময়মনসিংহ দুদক কার্যালয় থেকে একটি টিম সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানে আসেন।
তারা আমাদের অফিসের নথিপত্র দেখেছেন এবং কিছু সংগ্রহ করেছেন। তবে কি বিষয়ে কোন কোন কারনে অভিযানে এসেছেন এগুলোর ব্যাপারে আমাদেরকে তারা কোন কিছু বলেননি।
দালাল ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায় না এবং মোটরযানের রেজিস্ট্রেশনের অতিরিক্ত টাকা ছাড়া রেজিস্ট্রেশন না পাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স লাইসেন্সের জন্য একটি বোর্ড আছে। বোর্ডের সকল প্রক্রিয়া উত্তীর্ণ হলেই আমরা শুধু লাইসেন্স দিই।
সেটি অনলাইনে পাওয়া যায়। এখানে দালালদের কোন বিষয় নেই। মোটরযানের বিষয়টি বিভিন্ন মোটরযান ডিলার আছেন তারা সকল কাগজপত্র সঠিক ভাবে দেওয়ার পর রেজিস্ট্রেশন পায়। এখানে বিআরটিএ অফিসের কারো কোন হস্তক্ষেপ করা কোন সুযোগ নেই।
দুদক ময়মনসিংহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়া বলেন, আমরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিআরটিএ অফিসে অভিযান পরিচালনা করি। বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরযান রেজিস্ট্রেশনের জন্য দালালদের মাধ্যমে নিতে হয়।
এরকম কিছু অভিযোগ রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে অফিসের বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করেছি। বেশ কিছু কম্পিউটারের দোকানে অভিযান পরিচালনা করেছি। তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি যাচাই-বাছাই করে আমরা পরিচালক মহোদয় বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করব।
কয়েক মাস আগে নেত্রকোনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিসে অভিযান পরিচালনা করা এবং হারভেস্টার মেশিন বিতরণে ও নিয়মের প্রমাণ পায় দুদক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না স্থানীয় সাংবাদিকরা সরকারি পরিচালককে প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।