ফয়সাল হোসাইন সনি, বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ায় এক বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী বলছেন অভিযুক্ত ব্যাক্তি আওয়ামী লীগের দোষর।
এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি বলছেন ঈদ গা মাঠের টাকা পয়সার বিষয়ে ঝামেলা থাকায় অতর্কিতভাবে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ বলছেন অভিযোগ সঠিক হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগকারী আমিনুর রহমান খন্দকার শাহিন (৫২), বগুড়া সদর উপজেলার চাঁদপুর খন্দকারপাড়া এলাকার মৃত আতাউর রহমান খন্দকারের ছেলে।
আমিনুর রহমান খন্দকার শাহিন ছিলেন সাবেক মেম্বার, নিশিন্দারা ইউনিয়নের বিএনপি’র ধর্মীয় বিষয়ক সম্পাদক ও ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, ১ নং মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে শাহিনুর আলম টম্পি (৬০), শিরা শাহ’র ছেলে জনি শাহ (৪৫) ও জাকির হোসেন (৪২) অভিযুক্ত ৩ জন ব্যক্তিই বগুড়া সদর উপজেলার চাঁদপুর শাহপাড়া এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে নিশিন্দারা ইউনিয়নে বিএনপির কাউন্সিলর রাজিবুল করিম রাফির সমর্থন করতে নিষেধ করেন।
সেই নিষেধ অমান্য করায় অভিযোগকারীকে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্নভাবে গালিগালাজসহ মারধর করার হুমকি দেন।
তারই সুত্র ধরে ৪ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ টা ৩০ মিনিটের সময় অভিযোগকারী রাস্তা দিয়ে যাবার সময় বগুড়া সদর থানাধীন চাঁদপুর হিন্দুপাড়া স্কুলের সামনে পাকা রাস্তার উপর পথরোধ করে সকল অভিযোগকারী অভিযুক্তকে এলোপাথাড়ী কিলঘুসি মারেন।
এতে করে অভিযোগকারীর শরীরে ছেলা ফুলা জখম হয়। ২ ও ৩নং অভিযুক্ত অভিযোগকারীর দুই হাত ধরে থাকে এবং ১নং অভিযুক্ত ব্যাক্তি অভিযোগকারীর পাঞ্জাবীর কলার ধরে জনসম্মুখে অভিযোগকারীর গালে এলোপাথাড়ী চড়থাপ্পড় মারেন।
অভিযোগকারী আমিনুর রহমান খন্দকার শাহিন বলছেন, অভিযুক্ত টম্পি আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রার্থীদের হয়ে নির্বাচন করেছেন।
আমি একজন বিএনপি’র নেতা আমার গায়ে হাত উঠানো হয়েছে, আমি আমার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানিয়েছি। থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করেছি, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে অভিযুক্ত শাহিনুর আলম টম্পি বলেন, অভিযোগকারী ব্যক্তি যে নির্বাচনের কথা বলছেন সেই নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আমি অসুস্থ হয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।
অভিযোগকারী ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন আমি কোন আওয়ামী লীগের সমর্থিত কোন লোক নই। ঘটনার সময় ওখানে হাতাহাতি হয়েছে এটা সঠিক আমি তাকে একটি চর মেরেছি এটাও সঠিক।
সে আমার বয়সে ছোট কোন বেয়াদবি করলে আমি বড় হিসাবে তাকে একটি চড় মারতেই পারি। ওখানে আমার উপরেও আঘাত করা হয়েছে, আমি এই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে থানায় কোন অভিযোগ করিনি, তবে তারা যদি আইনগত ব্যবস্থা নেয় আমি আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
থানায় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম মঈনুদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব বলে কি আপনি মনে করেন?