মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

দুই মাসে দুবার দখল শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ

দুই মাসের ব্যবধানে দুবার দখল হলো রাজধানীর শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুই মাস আগে আওয়ামী চিকিৎসক পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তখন স্বাচিপ সভাপতি অর্ধশত বহিরাগত নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন এবং নিজেকে ট্রাস্টের সেক্রেটারি দাবি করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর ডক্টরস […]

নিউজ ডেস্ক

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০৭

দুই মাসের ব্যবধানে দুবার দখল হলো রাজধানীর শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুই মাস আগে আওয়ামী চিকিৎসক পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তখন স্বাচিপ সভাপতি অর্ধশত বহিরাগত নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন এবং নিজেকে ট্রাস্টের সেক্রেটারি দাবি করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি ফের দখলের অভিযোগ ওঠে।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২ অমান্য করে এক আদেশে ড্যাব সমর্থিত ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। ওই আদেশের পর তিনি মেডিকেল কলেজটি নিজের কবজায় নেন। তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর আলমেরও যোগসাজশ রয়েছে। প্রতিকার চেয়ে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। এ ছাড়া আইন অমান্য করে ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করায় উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা করা হয়েছে। এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত একটি রুলও জারি করেন।
প্রতিকার চেয়ে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্টের পক্ষ থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাঠানো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৫ বছর ধরে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটটি স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অবস্থান করছে। চলতি বছরের গত ৫ আগস্টের পর থেকেই ড্যাব সমর্থিত চিকিৎসক ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে কিছু শিক্ষক ও বহিরাগতকে নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তার প্রকৃত উদ্দেশ্য মেডিকেল কলেজটিকে বেআইনিভাবে দখল করা। এর আগে ২০০২ সালে বিএনপি
নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়েও ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস প্রতিষ্ঠানটির দখল নেন। ওই সময় তিনি সাত বছর মেডিকেল কলেজটি নিজের দখলে রাখেন এবং ব্যাপক অর্থ লুটপাট করেন। ২০০৯ সালে মেডিকেল কলেজটি ২০ কোটির বেশি টাকা ঋণে জর্জরিত হয়। তখন ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস পদত্যাগ করে চলে যান। মূল উদ্যোক্তা শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট এরপর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব নিয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিষ্ঠা, সততা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে কলেজটির একাডেমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, লাইব্রেরি, হাসপাতালের সেবা সার্ভিস এবং অর্থনৈতিক অবস্থাকে উৎকর্ষের শিখরে নিয়ে যায়। এ সময় ২০ কোটির বেশি টাকার ঋণও পরিশোধ করে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট। কলেজ ও হাসপাতালের কলেবর বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সঞ্চয় ২৬ কোটি টাকার বেশি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ও কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর আলম কলেজ এবং হাসপাতালটিকে দখলে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন। অথচ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং একদফা দাবিতে সরকার পতনের আন্দোলনের সময় এই অধ্যক্ষ পালিয়ে যান। এ সময় কলেজের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, চিকিৎসকরা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে অধ্যক্ষের অপসারণও দাবি করেন। তখন নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়। পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়। এর পর থেকেই কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর আলম ট্রাস্টি বোর্ডকে অচল করে দিয়ে ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে নিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি দখলে মরিয়ো হয়ে ওঠেন।
চিঠিতে বলা হয়, গত ১২ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম এবং ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে একটি গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান লাইলা আরঝুমানের মনোনয়ন বাতিল এবং বাকি সময়ের জন্য ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আদেশ জারি করান। অথচ ২০২৩ সালের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২ অনুসরণ করে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লাইলা আরঝুমানকে গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান করে তিন বছর মেয়াদি একটি গভর্নিং বোর্ড গঠন করে দেন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন ২০২২-এর ১৮/২ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং ৫০ শতাংশ গভর্নিং বোর্ডের সদস্য উদ্যোক্তা থেকে নির্বাচিত হবেন। এই আইনের ধারাকে অমান্য করে দখলদার চক্র থেকে প্রভাবিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদেশ জারি করে। ঢাবির আদেশ নিয়ে ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস এবং অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলমরা গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিন শতাধিক বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে কলেজটি দখল করেন। এমনকি ট্রাস্টি বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোকে অন্যায়ভাবে জব্দ করেন। দখলের পর থেকে তারা কলেজ ও হাসপাতালের ২৬ কোটি টাকার সঞ্চিত অর্থ কীভাবে ভাগ-বাটোয়ারা এবং অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীরের পুরস্কার হিসেবে অর্থের বাইরে তার মেয়াদকাল বাড়ানোর দর কষাকষি করছেন। যদিও আগামী ১৩ নভেম্বর এ ডা. জাহাঙ্গীরের অবসরে যাওয়ার কথা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে প্রতিষ্ঠানটি অন্যায়ভাবে দখল করেছে এই চক্র। এতে প্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক শিক্ষার্থী-শিক্ষক, চিকিৎসক এবং কর্মচারী এখন অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এ বিষয়ে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট আইনের আশ্রয় নিয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিকার চেয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস বলেন, মেডিকেল কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত। তারা একটি আদেশে আমাকে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করেছে। এরপর আমি প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়েছি। এখানে অন্যায়ভাবে দখলের তো কিছু করিনি।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২-এর ১৮/২ ধারায় বলা আছে, উদ্যোক্তা থেকে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করতে হবে। তাহলে আপনি কীভাবে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তারা এই আইনের বাইরেও নিজেদের একটি স্বতন্ত্র আইনে পরিচালিত হয়। সেখানে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনয়নে উদ্যোক্তা হতে হবে, এমন কোনো শর্ত নেই। তার চেয়ে বড় কথা, আমি বেআইনিভাবে কিছু করিনি।
ডা. মোসাদ্দেক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে মনোনীত করেছে, সেই চিঠি নিয়েই আমি কলেজে গিয়েছি। একটি অডিট ফার্মকে নিরীক্ষার দায়িত্ব দিয়েছি।
এর আগেও প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্ব নিয়ে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১৫ বছর তো ট্রাস্টের প্রত্যেকে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর ছিলেন। আমি অর্থ আত্মসাৎ করে থাকলে গত ১৫ বছরে কেন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেন না।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করে এবং খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।