সাইফুল ইসলাম সাগর, কলাপাড়া উপজেলা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর আলীপুরে বিয়ের চার মাসের মাথায় স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইতে গেলে সড়কে ফেলে পুত্রবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শশুর আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে।
শ্বশুর আহসান হাবিবসহ একটি দল এ সময় পুত্রবধূর মাফিয়া এবং সাথে থাকা তার বড় ভাই ফরিদ ইসলাম কে হাতুড়ি দিয়ে চোখের নিচে মারাত্মক জখম করেন তারা। এছাড়াও আরেক ভাই রিয়াজ উদ্দিনকেও মারধর করাগতকাল বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে আলীপুর থ্রি পয়েন্ট এলাকায় মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই মাফিয়া আক্তার বাদী হয়ে মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়লিখিত অভিযোগ ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৪ বছর আগে লতাচাপলীর আলীপুরের বাসিন্দা আহসান হাবিবের কলেজ পড়ুয়া ছেলে ওমর ফারুক নাবিল নামের এক যুবকের সাথে দোভাষীপাড়া গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়ে মাফিয়া আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সম্পর্ক গভীর হলে গত বছর অক্টোবর মাসের ৩১ তারিখ তারা এভিডেফিড’র মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আববিয়ের পরে ঢাকাতে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন তারাবিবাহের খবর পেলে ছেলে পক্ষের পরিবার সম্প্রতি নাবিলকে ঢাকা থেকে নিজ এলাকা আলীপুরে নিয়ে আসেন।
এরপর থেকে ওই নারীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। স্বামীর সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে মাফিয়া আক্তার নিজ এলাকায় চলে আসেন। বিভিন্ন মাধ্যমে স্বামীর সাথে যোগাযোগের ব্যর্থ চেষ্টা করেনগতকাল বৃহস্পতিবার স্বামী তার অগোচরে অন্যত্র বিয়ে করেন এবং সংবাদ পেয়ে তার বড় ভাইকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পথে আলীপুর থ্রি পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে তার স্বামীর সাথে দেখা হয়। বিয়ের বিষয়টি তিনি জানতে চাইলে তা অস্বীকার করেন
এবং বিষয়টি তার বাবাকে জানালে কয়েক মিনিটের মধ্যে তার নেতৃত্বে স্থানীয় যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম, সোহেল সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন লোক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরবর্তীতে খুন জখমের ভয় দেখালে তারা ঘটনাসপ্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য মিজান মুসুল্লি বলেন, আমি কুয়াকাটা থেকে আলীপুর থ্রি পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছে দেখি স্থানীয় আহসান হাবিব, শহিদুল হাওলাদার, ও সোহেল, ফরিদ নামের এ ব্যক্তিকে ধাওয়া করেন। পরে জানতে পারলাম বিবাহ সংক্রান্ত বিএ বিষয়ে মেয়ের বড় ভাই ফরিদ বলেন, আমার বোন মাফিয়া এবং ওমর ফারুক নাবিলের ৪ মাস আগে ঢাকাতে বিয়ে হয়।
বিয়ের পর নাবিল আমার বোনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আজ আমার বোন জানতে পারে নাবিল অন্য জায়গায় বিয়ে করে। খবর পেয়ে আমাকে এবং আমার ছোট ভাইকে নিয়ে তার বাড়িতে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে আমাদের দেখেই কোনো কথা না শুনে মারধর শুরু করেন, ছেলের বাবা ও তাদের কয়েকজন আত্মীয়। হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় এবং চোখের নিচে আঘাত করে।
এ বিষয়ে জানতে ছেলের বাবা আহসান হাবিবের মুঠোফোন কল দিলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোনের সংযোগটি বিছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওমর ফারুক নাবিকে মুঠোফোন একাধিক বার কল দিলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।