বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নাটোরে কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

নাটোরের বড়াইগ্রামে চলতি রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনায় বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকৃত কৃষকদের এ সার-বীজ না দিয়ে ভূয়া তালিকা করে তা আত্নসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। জানা গেছে, উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ জানুয়ারী ২০২৫, ০২:১৭

নাটোরের বড়াইগ্রামে চলতি রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনায় বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকৃত কৃষকদের এ সার-বীজ না দিয়ে ভূয়া তালিকা করে তা আত্নসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

জানা গেছে, উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে প্রণোদনা বিতরণের জন্য কৃষকের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়। প্রনোদনার চূড়ান্ত বিভাজন ইউনিয়ন ও পৌরসভা ওয়ারী মোট বরাদ্দকৃত কৃষক সংখ্যায় গম ৪৫০০, ভুট্টা ৪৫০, সরিষা ১৪০০, চিনাবাদাম ১০, শীতকালীন পেঁয়াজ ৫৫, মসুর ৩৫০, খেসারি ১৫০ জন , তাতে কৃষক প্রণোদনা সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৯১৫ জন।

তন্মধ্যে জোয়াড়ী ইউনিয়নে গম ৯০০, ভুট্টা ১০০, সরিষা ১১০, চিনাবাদাম ২, শীতকালীন পেঁয়াজ ৫, মসুর ৬০, খেসারি ৫, মোট ১,১৮২ জন্য কৃষক। 

বড়াইগ্রাম ইউনিয়নে গম ৪০৫, ভুট্টা ২৫, সরিষা ৮০, চিনাবাদাম ২, শীতকালীন পেঁয়াজ ৫, মসুর ২০, খেসারি ১০, মোট ৫৪৭ জন।

জোনাইল ইউনিয়নে গম ৭২০, ভুট্টা ২০, সরিষা ৮০, চিনাবাদাম ২, শীতকালীন পেঁয়াজ ৫, মসুর ২০, খেসারি ৫, মোট ৮৫২ জন।

 নগর ইউনিয়নে গম ৯০০, ভুট্টা ৪০, সরিষা ১৭০, চিনাবাদাম ১, শীতকালীন পেঁয়াজ ১০, মসুর ১০৫, খেসারি ৩৫, মোট ১২৬১ জন।

 মাঝগাঁও ইউনিয়নে গম ৮১০, ভুট্টা ৪৫, সরিষা ৩২০, চিনাবাদাম ২, শীতকালীন পেঁয়াজ ৫, মসুর ৭০, খেসারি ১৫, মোট ১২৬৭ জন।

গোপালপুর ইউনিয়নে গম ২৭০, ভুট্টা ৫৫, সরিষা ৩৬০, চিনাবাদাম ০, শীতকালীন পেঁয়াজ ১০, মসুর ৪০, খেসারি ১০, মোট ৭৪৬ জন।

চান্দাই ইউনিয়নে গম ২২৫, ভুট্টা ১১৫, সরিষা ১৮০, চিনাবাদাম ১, শীতকালীন পেঁয়াজ ৫, মসুর ২০, খেসারি ৬০, মোট ৬০৫ জন।

বনপাড়া পৌরসভায় গম ২২৫, ভুট্টা ৪০, সরিষা ৭০, চিনাবাদাম ০, শীতকালীন পেঁয়াজ ৫, মসুর ৫, খেসারি ৫, মোট ৩৫০ জন।

বড়াইগ্রাম পৌরসভায় গম ৪৫, ভুট্টা ১০, সরিষা ৩০, চিনাবাদাম ০, শীতকালীন পেঁয়াজ ৫, মসুর ১০, খেসারি ৫, মোট ১০৫ জন। 

নিয়ম অনুযায়ী কৃষক প্রতি ১। গম বীজ ২০ কেজি (ডিএপি ১০ কেজি,এম ও পি ১০ কেজি), ২। ভুট্টা বীজ ২ কেজি ( ডিএপি ২০ কেজি, এম ও পি ১০ কেজি) ৩। সরিষা বীজ ১ কেজি ( ডিএপি ১০ কেজি , এম ও পি ১০ কেজি) ৪।চিনাবাদাম ১০ কেজি(ডিএপি ১০ কেজি, এম ও পি ৫ কেজি) ৫।শীতকালীন পেঁয়াজ ১ কেজি ( ডি এ পি ১০ কেজি – এম ও পি ১০ কেজি)। ৬। মসুর ৫ কেজি ( ডি এ পি ১০ কেজি – এম ও পি ৫ কেজি) ৭। খেসারি ৮ কেজি ( ডি এ পি ১০ কেজি- এম ও পি ৫ কেজি) বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

মাঠপর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত কৃষকরা সার, বীজ ও প্রণোদনা পাচ্ছে না। মাঠ কর্মকর্তারা প্রতি বছর ঘুরেফিরে তাদের পছন্দের লোকদের নাম মাত্র তালিকা করে সার-বীজ ও কৃষি প্রণোদনা তুলে তা নিজেরাই অন্য জায়গায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে কিছু কৃষি উপসহকারীদের বিরুদ্ধে।এখানেই শেষ নয় স্থানীয় সাংবাদিকরা রবি মৌসুমের কৃষকদের প্রণোদনা তালিকা চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাদি হাসান।শীতকালীন প্রণোদনায় সবজি বীজ বিচরণের জন্য প্রায় চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় এই উপজেলায়, কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কোন কৃষককেই সঠিক সময়ে জানানো হয়নি সেই তথ্য, এই বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে যেনতেন ভাবে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার সবজি বীজ বিতরণ করা হয়, তেমনি ২ কেজি ধান বীজ বিতরণেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ, কৃষকদের তালিকা না করেই উপ-সহকারীদের সাথে যাদের সু সম্পর্ক তাদেরকেই এই ধান বীজ বিতরণ করা হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,অধিকাংশ (ভুয়া) কৃষক প্রণোদনার উপকরণ পেয়ে বাজারের এক সার ব্যবসায়ীর দোকানে বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে সরকারের মহতী উদ্যোগ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হতে চলেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী তারিক বিন আমীন জানান, সার ও বীজ বিতরণে জন্য আমার ইউনিয়নে তালিকা করার জন্য অফিস থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল,  তালিকা করে অফিসে পাঠিয়েছিলাম সেই অনুযায়ী সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। 

কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনার তালিকা জানতে চাইলে উপজেলার সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মাহাদি হাসান বলেন, কৃষকদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য থাকে এজন্য তালিকা সাংবাদিকদের দিতে পারি না, এবং সরকারি প্রণোদনার মালামাল বিএডিসি তাদের সরবরাহ করে। 

প্রণোদনা বিতরণ অনিয়মের দুর্নীতির অভিযোগে বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মারফুদুল হক জানান, প্রণোদনার সার এবং বীজ উপজেলা চত্বর থেকে বিতরণ করা হয়, প্রতি ব্লকে ভাগ করে তালিকা প্রস্তুত ও বিতরণ করা হয়,আর এই বন্টন করতে গিয়ে যদি কোন অনিয়ম থাকে তাহলে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।  

বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান , প্রণোদনা বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার কোন সুযোগ নেই, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।