রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

লালমনিরহাটে পেঁয়াজ উৎপাদন কৃষি খাতের এক বিশাল সম্ভাবনা

লালমনিরহাট, বাংলাদেশের একটি উত্তরাঞ্চলীয় জেলা, যা তার উর্বর মাটি এবং কৃষি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। পেঁয়াজ শুধু বাংলাদেশের খাদ্য সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।  চারা গাছ লাগানোর ১০০-১১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ ঘরে তোলা যায় […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ জানুয়ারী ২০২৫, ০০:২৫

লালমনিরহাট, বাংলাদেশের একটি উত্তরাঞ্চলীয় জেলা, যা তার উর্বর মাটি এবং কৃষি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। পেঁয়াজ শুধু বাংলাদেশের খাদ্য সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। 

চারা গাছ লাগানোর ১০০-১১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ ঘরে তোলা যায় । প্রতি হেক্টর জমিতে ১১ থেকে ১৩ মেট্রিক টন পেয়াঁজ উৎপাদন হয়। এই জাতের এক একটি পেঁয়াজের ওজন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। আজকের বাজার মূল্যে হিসাব করলে প্রতি মন পেঁয়াজে সকল খরচ বাদ দিয়ে গতবছরের তুলনায় ২৫ টাকা অতিরিক্ত লাভ হয়। 

দেশে ৩.৩৬ লক্ষ হেক্টর জমিতে মসলা জাতীয় ফসলের উৎপাদন ছিল ৬.০০ লক্ষ মেঃ টন কিন্তু বর্তমানে ৬.২৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন হচ্ছে ৫৬.৯৩ লক্ষ মেঃ টন। ২০১৫ সাল থেকে তুলনামূলকভাবে মসলা ফসলের মোট উৎপাদন বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১১.৯৮ গুন।

পেঁয়াজের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা: পেঁয়াজ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মসলা ফসল। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উৎপাদনকারীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। লালমনিরহাটে পেঁয়াজ উৎপাদন চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করে।

উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা: লালমনিরহাটে পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত জলবায়ু এবং মাটি রয়েছে। এখানে বেশিরভাগ কৃষক পেঁয়াজ চাষে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। পেঁয়াজ চাষের প্রধান এলাকা হিসেবে লালমনিরহাটের বেশ কিছু উপজেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে কালীগঞ্জ, আদিতমারী, হাতীবান্ধা এবং পাটগ্রাম উপজেলায় পেঁয়াজ চাষ ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

প্রতি বছর লালমনিরহাটে প্রায় হাজার হাজার একর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা সাধারণত দুই প্রকারের পেঁয়াজ চাষ করে থাকেন: মৌসুমী পেঁয়াজ এবং বর্ষার পেঁয়াজ। মৌসুমী পেঁয়াজ সাধারণত শীতকালে চাষ করা হয় এবং বর্ষার পেঁয়াজ বর্ষাকালে। এই দুই ধরনের পেঁয়াজই বাজারে উচ্চ চাহিদা পূরণ করে।

চ্যালেঞ্জ: পেঁয়াজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে লালমনিরহাটে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য অসুবিধার সৃষ্টি করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু চ্যালেঞ্জ হলো:

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা, ঝড় ইত্যাদি পেঁয়াজের ফসলের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বন্যা পেঁয়াজ ক্ষেত্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

২. বীজের সংকট: উন্নতমানের বীজের অভাব পেঁয়াজ উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক সময় কৃষকদের উন্নত মানের বীজ সংগ্রহ করতে অসুবিধা হয়, যা ফলনের পরিমাণ এবং গুণগত মানে প্রভাব ফেলে।

৩. রোগবালাই: পেঁয়াজ ফসলের রোগবালাই একটি সাধারণ সমস্যা। বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ পেঁয়াজের ফসলের ক্ষতি করতে পারে, যা ফলন হ্রাসের কারণ হতে পারে।

৪. সংরক্ষণ ও বিপণন: পেঁয়াজ সংগ্রহের পর সংরক্ষণ ও বিপণন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় পেঁয়াজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও, বাজারজাত করার ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাব একটি বড় সমস্যা।

সম্ভাবনা: যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে লালমনিরহাটে পেঁয়াজ উৎপাদনে বেশ কিছু সম্ভাবনাও রয়েছে। নিম্নে কয়েকটি সম্ভাবনার দিক উল্লেখ করা হলো:

১. উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ: উন্নত কৃষি প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করা সম্ভব। কৃষকদেরকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ প্রদান করে এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে এ লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা যেতে পারে।

২. সংরক্ষণ প্রযুক্তি: পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পচন কমানো সম্ভব। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম এবং সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে পেঁয়াজের দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।

৩. বিপণন নেটওয়ার্ক: উন্নত বিপণন নেটওয়ার্ক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পেঁয়াজের বাজারজাতকরণ সহজ করা যেতে পারে। কৃষকদের জন্য সরাসরি বাজার সংযোগ তৈরি করে এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের মুনাফা বৃদ্ধি করা যায়।

৪. সহায়তা এবং ঋণ সুবিধা: সরকার এবং ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে। এতে করে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।

লালমনিরহাটে পেঁয়াজ উৎপাদন কৃষি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে সঠিক পদক্ষেপ এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এ খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের সমর্থন এবং সঠিক সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।