বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রাঙ্গা’র স্ত্রী’র সংবাদ সম্মেলন

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরে মিথ্যা ষড়ন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার এনায়েত করিম রাঙ্গার মুক্তির দাবীতে স্ত্রী উম্মে সালমা (পাপিয়া) সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।   জুলাই- আগষ্ট বিপ্লবে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সত্বেও শুধুমাত্র আপন ভাতিজার করা প্রতিহিংসামূলক ষড়যন্ত্রের মামলায় ফেঁসে গেলেন চাচা এনায়েত করিম রাঙ্গা। বর্তমানে রাঙ্গা হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলের খাঁচায় বন্দি। গত ২৮ ডিসেম্বর শনিবার নাটোরের সিংড়া থানা […]

নিউজ ডেস্ক

৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৪:৪৮

নাটোর প্রতিনিধিঃ

নাটোরে মিথ্যা ষড়ন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার এনায়েত করিম রাঙ্গার মুক্তির দাবীতে স্ত্রী উম্মে সালমা (পাপিয়া) সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।  

জুলাই- আগষ্ট বিপ্লবে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সত্বেও শুধুমাত্র আপন ভাতিজার করা প্রতিহিংসামূলক ষড়যন্ত্রের মামলায় ফেঁসে গেলেন চাচা এনায়েত করিম রাঙ্গা। বর্তমানে রাঙ্গা হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলের খাঁচায় বন্দি।

গত ২৮ ডিসেম্বর শনিবার নাটোরের সিংড়া থানা পুলিশ তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছে।

এনায়েত করিম রাঙ্গা জুলাই-আগষ্টের পুরোটা সময় জুড়ে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন এবং এই আন্দোলনের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নিয়মিত কাজ করছেন। অথচ তার ভাতিজা ফয়সাল আহম্মেদ পারিবারিক কলহের জেরে মিথ্যা ষড়যন্ত্রের মামলায় চাচাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান রাঙ্গার স্ত্রী উম্মে সালমা (পাপিয়া)। এই এনায়েত করিম রাঙ্গা একসময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোর ছাত্রনেতা ও ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের আহবায়ক এর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে বিগত ১৫ বছর নানাভাবে পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন।

সোমবার ৩০ ডিসেম্বর নাটোরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্গার স্ত্রী দাবি করেন – তার স্বামী জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওষুধ,পানি, স্যালাইন এবং খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। অথচ তারই নামে ছাত্র হত্যার মিথ্যা মামলা দেয়া হলো।

উম্মে সালমা পাপিয়া বলেন, তার স্বামী রাঙ্গা ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই তার ভাই আবু জাহেল তার অভিভাবক হিসাবে দেখাশোনা করতেন। এনায়েত করিম রাঙ্গার বাবার দুই পরিবার ছিল। অর্থাৎ সৎ মায়ের ঘরের আরো সন্তান আছে। বছর খানেক আগে ২০২৩ সালে রাঙ্গার বড়ভাই আবু জাহেল জমিসংক্রান্ত বিষয়ে সৎ ভাই তৈয়ব আলী কে গুলি করে মারতে গেলে এনায়েত করিম বাঁধা দেন। সেই থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে দন্দ চলছিল। সৎ ভাই তৈয়ব আলীকে গুলি চালানোর ঘটনায় মামলা করলে আবু জাহেল গ্রেফতার হয়ে ২১ দিন কারা ভোগ করেন । পরে জামিনে বেরিয়ে এলে তাদের দ্বন্দ তীব্র আকার ধারন করে। আবু জাহেদের ছেলে ফয়সাল আহম্মেদ বাবাকে জেল খাটানোর পেছনে এনায়েত করিম রাঙ্গার হাত আছে সন্দেহ করে এবং সেই থেকে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকেন। আবু জাহেল সিংড়া থানার ৪ং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন।

ফয়সাল আহম্মেদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগ প্রতিনিধি ছিলেন বলে জানান তার চাচি পাপিয়া। জুলাই আগস্টের বিপ্লবে ছাত্রদের দমন করতে তার ভূমিকা ছিল। সে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর জুনায়েদ আহম্মেদ পলক এর ঘনিষ্ঠ ভাজনও ছিলেন। এবং পলকের যাবতীয় কাজ দেখাশোনা করতেন। ছোটখাট যেকোন বিষয়ে সে মামলাবাজ হিসাবেও পরিচিত। এই ফয়সাল আহম্মেদ এর অত্যাচারে এলাকা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।

প্রতিশোধের নেশায় ফয়সাল ১৩ আগষ্ট ঢাকায় পারিবারিক ভাবে তার বাবা আবু জাহেলের নামে মামলা ৭ দিনের মধ্যে তুলে নেওয়ার হুমকী দেয় রাঙ্গা ও তার পরিবারকে। কিন্তু এনায়েত করিম রাঙ্গা’র ভাষ্য ছিল মামলার বাদী তো আমি না। এতে ফয়সাল আহম্মেদ তাদেরকে ঢাকা থেকে তারিয়ে দিবে বলে হুশিয়ারী দেয়। এবং ১৩ আগষ্ট ঢাকার কলাবাগান থানায় এনায়েত করিম রাঙ্গার নামে একটি মিথ্যা মামলা করেন ফয়সাল আহম্মেদ। এরপর ১৮ আগষ্ট ফয়সাল আহম্মেদ তার বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র বন কে সাথে নিয়ে রাত সাড়ে ১১টার সময় এনায়েত করিম রাঙ্গার হাতিরপুল এলাকার বাসার সমানে দোকানে দোকানে রাঙ্গার ছবি দেখিয়ে ডিবি পরিচয়ে তাকে খুজতে থাকে এবং রাঙ্গা একজন সন্ত্রাসী তার নামে গণহত্যার মামলা করা হবে সে কোন বাসায় থাকে চিনিয়ে দিতে বলেন ফয়সাল আহম্মেদ। এর কিছুদিন পর অক্টোবর মাসে এনায়েত করিম রাঙ্গার গ্রামের বাড়ি নাটোরের সিংড়ায় পুলিশ যায। ঢাকার সূত্রাপুর থানার একটি হত্যা মামলার তদন্তে। সেই মামলার ১নং আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ২য় ওবায়দুল কাদের, ৩য় জাহাঙ্গীর কবির নানক পর্যায়ক্রমে ৫০ নং এনায়েত করিম রাঙ্গা। এভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলায় হতবিম্ব হয়ে পড়েন রাঙ্গা র পরিবার। পুলিশি পরামর্শে আশ্বস্ত হন কোন মিথ্যা মামলা হলে তা তদন্ত করে সুরাহা করা হবে। কিন্তু এর কয়েকদিন পার না হতেই হঠাৎ আবার ডিসেম্বর ১৮ তারিখে ঢাকার বনানী থানায় আরেকটি হত্যা মামলায় আসামী করা হয় এনায়েত করিম রাঙ্গা কে।

এরই মধ্যে গত বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) ঢাকা থেকে এনায়েত করিম রাঙ্গা তার নিজ গ্রাম নাটোরের সিংড়ায় আসেন এবং গত ২৮ ডিসেম্বর শনিবার রাতে সিংড়া থানার পুলিশ এনায়েত করিম রাঙ্গা কে তার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছে।

এই মিথ্যা মামলায় এনায়েত করিম রাঙ্গা কে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে তার স্ত্রী উম্মে সালমা (পাপিয়া) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি করেন, তার স্বামী কখনোই আওয়ামিলীগ রাজনীতির সাথে জড়িত না এবং কোন হত্যার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহযোগীরা ভূমিকায় সক্রিয় ছিলেন। এবং আমি ও আমার ছোট মাসুম সন্তানও ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাঠে থাকা একজন প্রতিবাদী নারী যোদ্ধা ছিলাম।

ফয়সাল আহম্মেদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য হয়েও শুধুমাত্র পারিবারিক দ্বন্দের প্রতিশোধ নিতে নিজেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমন্বয়ক পরিচয় দিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার সুবাদে তার সাথে সমন্বয়ক সার্ভিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্পর্ক আছে নাম ভাঙ্গিয়ে নিরীহ মানুষ কে হয়রানী ও হুমকী ধামকী দিয়ে বেড়াচ্ছে। এবং মিথ্যা মামলাবাজী করছে।

উম্মে সালমা (পাপিয়া) এই মিথ্যা ষড়যন্ত্র মূলক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, সহ সমন্বয়ক সার্ভিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ মহোদয়ের সুচিন্তিত সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।