বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সাবেক আইনমন্ত্রীর এপিএস জীবনের হিসাবহীন সম্পদের পাহাড়

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস হয়ে দুহাতে উপার্জন করেছেন অবৈধ অর্থ। আর অবৈধ সম্পদে নিজের জীবনই পালটে ফেলেন রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এলাকায় মাদকের কারবার থেকে শুরু করে ভারতীয় গরু পাচার, টেন্ডারবাজি এবং বদলি বাণিজ্যে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া দুটি উপজেলা মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন। আনিসুল হক এই আসনের এমপি ছিলেন। কসবা […]

নিউজ ডেস্ক

২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৩৬

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস হয়ে দুহাতে উপার্জন করেছেন অবৈধ অর্থ। আর অবৈধ সম্পদে নিজের জীবনই পালটে ফেলেন রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এলাকায় মাদকের কারবার থেকে শুরু করে ভারতীয় গরু পাচার, টেন্ডারবাজি এবং বদলি বাণিজ্যে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া দুটি উপজেলা মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন। আনিসুল হক এই আসনের এমপি ছিলেন। কসবা উপজেলায় সবকিছু চলতো তারই ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) জীবনের ইশারায়।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকে টানা চার বছর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস ছিলেন মো. রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এই পদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বাগিয়ে নেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় বাগিয়ে নেন কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। এই দুই পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বুলেটের গতিতে করেছেন শত কোটি টাকার সম্পদ। আনিসুল হকের ছত্রছায়াতেই কসবার একক ‘শাসনকর্তা’ বনে যান তিনি। অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে জীবন গড়ে তোলেন নিজস্ব এক বাহিনী।

নয়নপুর বাজারের পশ্চিম পাশে সরকারের খাস জায়গায় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় জীবন ৪৫টি দোকান নির্মাণ করেছেন। এসব দোকান থেকে তিনি ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নিয়েছেন। বায়েক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কসবা উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি উত্তম কুমার চক্রবর্তীকে দিয়ে তিনি এই টাকা উত্তোলন করেছেন। এলাকায় জীবনের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন উত্তম। জীবনের অপকর্মের সহযোগী হওয়ার কারণে এখন এলাকা থেকে পালিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার ও ক্যাম্পাসে খুনের দায়ে অভিযুক্ত স্থানীয় যুবলীগ নেতা আজমলের মাধ্যমে সীমান্তের ওপারের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন মাদক পাচার সিন্ডিকেট। ১০ বছর ধরে এই সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার মাদকের কারবার করেছে। এই চক্র থেকে প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকা নিতেন এপিএস জীবন। আজমলের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট ভারত থেকে গরু পাচারের সঙ্গেও জড়িত ছিল। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার সীমান্তবর্তী কসবা উপজেলার উঁচু টিলাসমৃদ্ধ নির্জন জনপদ মাদলা, খাদলা, গৌরাঙ্গলা, শ্যামপুর ও পুটিয়া দিয়ে দিনে-রাতে সমানে গরু পাচার হয়ে আসত বাংলাদেশে। সীমান্তের ওপার থেকে গরু পাচার নির্বিঘ্ন করতে জীবনকে বছরে দুই কোটি টাকা দিতে হতো।

জীবন আইনমন্ত্রীর এপিএস থাকাকালীন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১০ জন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে বায়েক ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রত্যেক মেম্বার প্রার্থীর কাছ থেকেও ৫ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা এসব তথ্য দিয়েছেন। এলাকার বিএনপির বহু নেতাকর্মী, এমনকি নিজ দল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীও ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। আবার কেউ রাজনীতি না করে চুপচাপ সময় কাটিয়েছেন। এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবন তছনছ করেছেন এই জীবন। নিজ দল আ.লীগের কোনো নেতাকর্মী তার মতের বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকি, মারধর, মামলাসহ এলাকাছাড়া করা হতো। এক কথায় তার ভয়ে পুরো কসবা থরথর করে কাঁপত।

কসবার বায়েক ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, এপিএস জীবনের বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় আমার নামে ৪টা মিথ্যা মামলা দেন তিনি। আমার ৩ ভাইকেও মামলা দিয়ে বছরের পর বছর হয়রানি করা হয়।

কসবার নয়নপুরের হুমায়ুন নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবন তার ক্ষমতার দাপটে আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনসহ ১৩৭ জনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। জীবন তার নিজ গ্রাম কোনাঘাটার জনৈক নিদান মিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক নামমাত্র টাকা দিয়ে ৭০ শতক জায়গা লিখে নিয়েছেন।

কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কোনাঘাটা গ্রামের বাসিন্দা জীবনের বাবা আবদুর রশিদ ভূঁইয়া ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তার মা ওয়াহিদা শিরিন ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়া। ২০১৮ সালেও জীবনের তেমন সম্পদ ছিল না। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ত্রিপুরা সীমান্তসংলগ্ন কসবা রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে জীবন ডুপ্লেক্স বাড়ি করেছেন। ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের পতনের পর এটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ বাড়ি থেকে প্রতি রাতে কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য বাংলাদেশ ও ভারতে আনা-নেওয়া এবং মাদক কারবার পরিচালনা করা হতো। সাবরেজিস্টার পদে বদলির জন্য ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা নিতেন জীবন।

নিজ ইউনিয়নের নয়নপুর বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় জীবন দুটি মার্কেট গড়েছেন। এরপর পজিশন বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ১০ কোটি টাকা। নয়নপুর গরুর হাটের ইজারার ৫০ শতাংশ টাকা নিজের পকেটস্থ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে স্ত্রী ও নিজের নামে ১০ শতাংশের দুটি প্লট কিনেছেন। নামমাত্র মূল্যে কসবার বায়েক ইউনিয়নের মাদলা গ্রামে প্রায় ১০ একর পাহাড় কিনেছেন। শ্বশুরবাড়ি আখাউড়ার ছতুরা শরীফ গ্রামে স্ত্রী নিলুফার নামে কিনেছেন ১০ বিঘা জমি।

জীবন বছর পাঁচেক আগে ঢাকার ১৬৪ নম্বর আরামবাগে ছয়তলা বাড়ি কেনেন। রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে কারখানা করার উদ্দেশে কিনেছেন এক একর জমি। জীবন তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাইয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে জীবন ছাত্রলীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি এমরান উদ্দিন জুয়েলকে কসবা পৌরসভার মেয়র বানান। জুয়েলের মাধ্যমেই এলাকায় গড়ে তোলা হয় ‘জীবন বাহিনী’। এ বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি বিরোধী দল এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীও। জীবনের নির্দেশে এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনসহ অনেকে দুবারের সাবেক এমপি মোহাম্মদ শাহ আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর ওই সাবেক সংসদ-সদস্যকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

সাবেক সংসদ-সদস্য মো. শাহ আলম বলেন, গত ১৫ বছর আমাকে এলাকায় ঢুকতে দেননি জীবন। মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। আনিসুল হকের অপকর্মের প্রধান হাতিয়ার ছিলেন জীবন। আনিসুল হক সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন জীবনের মাধ্যমে।

জীবনের মাস্তান বাহিনীতে ছাত্রলীগ নেতা এমরান উদ্দিন জুয়েল, মনির হোসেন, রিমন খান, কাজী মানিক, এমদাদুল হক পলাশসহ অনেকে রয়েছেন। তারা এলাকায় মাদক কারবার, টেন্ডারবাজি, সীমান্তে ভারতীয় গরুর হাট নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ বাহিনী সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা শ্যামল কুমার রায়, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সাহা মনি, বিশিষ্ট শিল্পপতি এ কে এম বদিউল আলমসহ অনেককে নিজ জন্মভূমি কসবায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। কেউ টুঁ শব্দ করলেই তার ওপর নেমে আসত নির্যাতনের খক্ষ।

অবশেষে ১৯ অক্টোবর রাতে রাজধানীর কাকরাইল এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে জীবনকে পাকড়াও করে পুলিশ। গত দুই বছর আগে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের সময় গুলিতে দলটির কর্মী মকবুল হোসেন নিহতের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতারের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।