মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সাবেক আইনমন্ত্রীর এপিএস জীবনের হিসাবহীন সম্পদের পাহাড়

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস হয়ে দুহাতে উপার্জন করেছেন অবৈধ অর্থ। আর অবৈধ সম্পদে নিজের জীবনই পালটে ফেলেন রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এলাকায় মাদকের কারবার থেকে শুরু করে ভারতীয় গরু পাচার, টেন্ডারবাজি এবং বদলি বাণিজ্যে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া দুটি উপজেলা মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন। আনিসুল হক এই আসনের এমপি ছিলেন। কসবা […]

নিউজ ডেস্ক

২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৩৬

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস হয়ে দুহাতে উপার্জন করেছেন অবৈধ অর্থ। আর অবৈধ সম্পদে নিজের জীবনই পালটে ফেলেন রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এলাকায় মাদকের কারবার থেকে শুরু করে ভারতীয় গরু পাচার, টেন্ডারবাজি এবং বদলি বাণিজ্যে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া দুটি উপজেলা মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন। আনিসুল হক এই আসনের এমপি ছিলেন। কসবা উপজেলায় সবকিছু চলতো তারই ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) জীবনের ইশারায়।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকে টানা চার বছর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস ছিলেন মো. রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। এই পদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বাগিয়ে নেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় বাগিয়ে নেন কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। এই দুই পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বুলেটের গতিতে করেছেন শত কোটি টাকার সম্পদ। আনিসুল হকের ছত্রছায়াতেই কসবার একক ‘শাসনকর্তা’ বনে যান তিনি। অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে জীবন গড়ে তোলেন নিজস্ব এক বাহিনী।

নয়নপুর বাজারের পশ্চিম পাশে সরকারের খাস জায়গায় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় জীবন ৪৫টি দোকান নির্মাণ করেছেন। এসব দোকান থেকে তিনি ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নিয়েছেন। বায়েক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কসবা উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি উত্তম কুমার চক্রবর্তীকে দিয়ে তিনি এই টাকা উত্তোলন করেছেন। এলাকায় জীবনের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন উত্তম। জীবনের অপকর্মের সহযোগী হওয়ার কারণে এখন এলাকা থেকে পালিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার ও ক্যাম্পাসে খুনের দায়ে অভিযুক্ত স্থানীয় যুবলীগ নেতা আজমলের মাধ্যমে সীমান্তের ওপারের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন মাদক পাচার সিন্ডিকেট। ১০ বছর ধরে এই সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার মাদকের কারবার করেছে। এই চক্র থেকে প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকা নিতেন এপিএস জীবন। আজমলের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট ভারত থেকে গরু পাচারের সঙ্গেও জড়িত ছিল। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার সীমান্তবর্তী কসবা উপজেলার উঁচু টিলাসমৃদ্ধ নির্জন জনপদ মাদলা, খাদলা, গৌরাঙ্গলা, শ্যামপুর ও পুটিয়া দিয়ে দিনে-রাতে সমানে গরু পাচার হয়ে আসত বাংলাদেশে। সীমান্তের ওপার থেকে গরু পাচার নির্বিঘ্ন করতে জীবনকে বছরে দুই কোটি টাকা দিতে হতো।

জীবন আইনমন্ত্রীর এপিএস থাকাকালীন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১০ জন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে বায়েক ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রত্যেক মেম্বার প্রার্থীর কাছ থেকেও ৫ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা এসব তথ্য দিয়েছেন। এলাকার বিএনপির বহু নেতাকর্মী, এমনকি নিজ দল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীও ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। আবার কেউ রাজনীতি না করে চুপচাপ সময় কাটিয়েছেন। এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবন তছনছ করেছেন এই জীবন। নিজ দল আ.লীগের কোনো নেতাকর্মী তার মতের বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকি, মারধর, মামলাসহ এলাকাছাড়া করা হতো। এক কথায় তার ভয়ে পুরো কসবা থরথর করে কাঁপত।

কসবার বায়েক ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, এপিএস জীবনের বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় আমার নামে ৪টা মিথ্যা মামলা দেন তিনি। আমার ৩ ভাইকেও মামলা দিয়ে বছরের পর বছর হয়রানি করা হয়।

কসবার নয়নপুরের হুমায়ুন নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবন তার ক্ষমতার দাপটে আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনসহ ১৩৭ জনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। জীবন তার নিজ গ্রাম কোনাঘাটার জনৈক নিদান মিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক নামমাত্র টাকা দিয়ে ৭০ শতক জায়গা লিখে নিয়েছেন।

কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের কোনাঘাটা গ্রামের বাসিন্দা জীবনের বাবা আবদুর রশিদ ভূঁইয়া ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তার মা ওয়াহিদা শিরিন ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়া। ২০১৮ সালেও জীবনের তেমন সম্পদ ছিল না। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ত্রিপুরা সীমান্তসংলগ্ন কসবা রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে জীবন ডুপ্লেক্স বাড়ি করেছেন। ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের পতনের পর এটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ বাড়ি থেকে প্রতি রাতে কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য বাংলাদেশ ও ভারতে আনা-নেওয়া এবং মাদক কারবার পরিচালনা করা হতো। সাবরেজিস্টার পদে বদলির জন্য ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা নিতেন জীবন।

নিজ ইউনিয়নের নয়নপুর বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় জীবন দুটি মার্কেট গড়েছেন। এরপর পজিশন বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ১০ কোটি টাকা। নয়নপুর গরুর হাটের ইজারার ৫০ শতাংশ টাকা নিজের পকেটস্থ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে স্ত্রী ও নিজের নামে ১০ শতাংশের দুটি প্লট কিনেছেন। নামমাত্র মূল্যে কসবার বায়েক ইউনিয়নের মাদলা গ্রামে প্রায় ১০ একর পাহাড় কিনেছেন। শ্বশুরবাড়ি আখাউড়ার ছতুরা শরীফ গ্রামে স্ত্রী নিলুফার নামে কিনেছেন ১০ বিঘা জমি।

জীবন বছর পাঁচেক আগে ঢাকার ১৬৪ নম্বর আরামবাগে ছয়তলা বাড়ি কেনেন। রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে কারখানা করার উদ্দেশে কিনেছেন এক একর জমি। জীবন তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাইয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে জীবন ছাত্রলীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি এমরান উদ্দিন জুয়েলকে কসবা পৌরসভার মেয়র বানান। জুয়েলের মাধ্যমেই এলাকায় গড়ে তোলা হয় ‘জীবন বাহিনী’। এ বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি বিরোধী দল এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীও। জীবনের নির্দেশে এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনসহ অনেকে দুবারের সাবেক এমপি মোহাম্মদ শাহ আলমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর ওই সাবেক সংসদ-সদস্যকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

সাবেক সংসদ-সদস্য মো. শাহ আলম বলেন, গত ১৫ বছর আমাকে এলাকায় ঢুকতে দেননি জীবন। মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। আনিসুল হকের অপকর্মের প্রধান হাতিয়ার ছিলেন জীবন। আনিসুল হক সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন জীবনের মাধ্যমে।

জীবনের মাস্তান বাহিনীতে ছাত্রলীগ নেতা এমরান উদ্দিন জুয়েল, মনির হোসেন, রিমন খান, কাজী মানিক, এমদাদুল হক পলাশসহ অনেকে রয়েছেন। তারা এলাকায় মাদক কারবার, টেন্ডারবাজি, সীমান্তে ভারতীয় গরুর হাট নিয়ন্ত্রণ করতেন। এ বাহিনী সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা শ্যামল কুমার রায়, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সাহা মনি, বিশিষ্ট শিল্পপতি এ কে এম বদিউল আলমসহ অনেককে নিজ জন্মভূমি কসবায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। কেউ টুঁ শব্দ করলেই তার ওপর নেমে আসত নির্যাতনের খক্ষ।

অবশেষে ১৯ অক্টোবর রাতে রাজধানীর কাকরাইল এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে জীবনকে পাকড়াও করে পুলিশ। গত দুই বছর আগে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের সময় গুলিতে দলটির কর্মী মকবুল হোসেন নিহতের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতারের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

সারাদেশ

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার […]

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনায় ভেসে উঠলো পুলিশ সদস্যের নিথর দেহ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ মার্চ ২০২৬, ২৩:০২

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অভিযানে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের সন্ধান মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পড়েছিল ওই পুলিশ কনস্টেবলের নিথর দেহ। তিনি লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যার পর মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মেঘনা নদীতে মৎস্য অভিযানের জন্য মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও একজন পুলিশ অফিসারসহ ৩ জন কনস্টেবল স্পিডবোটে করে মেঘনা নদীতে রওয়ানা দেন।

এ সময় যাত্রীবাহী লঞ্চ কর্ণফুলী-১২ এর সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। এ ঘটনায় ওই স্পিডবোটে থাকা সবাই তীরে উঠতে পারলেও নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়ে যান কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলাম। তাকে উদ্ধার করতে গত দুইদিন ধরে কাজ করেছেন নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে খবর পাওয়া যায় দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়েছিল।

স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দৌলতখান থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন। দৌলতখান থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যে আমরা নিশ্চিত হই ওই মরদেহটি নিখোঁজ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সারাদেশ

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার

চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় পাবনা-২ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘হ্যাঁ’ ভোটের অ্যাম্বাসেডর ও দলের যুব সংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে কামালপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে তাকে সুজানগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তিনি […]

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৫

চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় পাবনা-২ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘হ্যাঁ’ ভোটের অ্যাম্বাসেডর ও দলের যুব সংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে কামালপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে তাকে সুজানগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আকমল শিকদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালে জামালপুর জেলার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় তিনি এক মাসের কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে প্রচারণা শেষে বাড়িতে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তারকে হয়রানিমূলক দাবি করেছে আসাদুল্লাহর পরিবার। তার স্ত্রী নাঈমা আক্তার রিমা বলেন, গভীর রাতে বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, তিনি ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন বলেই আইনানুগভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।