সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি তেলের অস্থিরতা প্রভাব ফেলেছে বাংলাদেশের প্রান্তিক জেলা লালমনিরহাটেও। ঈদের ঠিক আগমুহূর্ত থেকে শুরু হওয়া তেলের তীব্র সংকটে যখন সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ, ঠিক তখনই এর একটি অভাবনীয় ইতিবাচক দিক ফুটে উঠেছে সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে।
লালমনিরহাট জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ঈদে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িজনিত সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
তেলের পাম্পে ‘নো স্টকের’ সুফল ঈদের আগের দিন থেকেই লালমনিরহাটের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়। ফলে জেলা শহর থেকে শুরু করে লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার সড়কগুলোতে কিশোর ও তরুণদের ‘বেপরোয়া রাইডিং’ চোখে পড়েনি।
প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে তেলের সহজলভ্যতার কারণে উঠতি বয়সের তরুণদের মধ্যে যে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রতিযোগিতা দেখা যেত, এবার তেলের অভাবে তা থমকে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি সংকটে লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনা ৮০% হ্রাস লালমনিরহাটে জ্বালানি সংকটের কারণে এবারের ঈদে মোটরসাইকেল চলাচল প্রায় ৬০% কমেছে। ফলে বিগত বছরগুলোতে ঈদের ৩ দিনে গড়ে ১৫-২০টি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটলেও, এবার তা মাত্র ২-৪টিতে নেমে এসেছে। তেলের অভাবে কিশোর ও তরুণদের বেপরোয়া বাইক চালানো বন্ধ থাকায় জেলায় কোনো গুরুতর দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়ে বসবাসরত ফিরোজ আহমেদ-একজন অভিভাবক জানান, “প্রতি বছর ঈদের সময় মোটরসাইকেলের শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যেত, ভয়ে সন্তানদের রাস্তায় বের হতে দিতাম না। এবার তেল নেই বলে ছেলেরা বাইক নিয়ে বের হতে পারেনি, রাস্তা ছিল শান্ত। তেলের সংকট আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।”
বিশ্লেষকদের অভিমত পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল লালমনিরহাট নয়, সারা দেশেই ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কম হওয়ায় মহাসড়কগুলোতেও চাপ কম ছিল। তেলের সংকটে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ গণপরিবহন ও ধীরগতির যানবাহনে যাতায়াত করেছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে দিয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই সাময়িক সংকট প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কঠোর ট্রাফিক আইন বা সচেতনতা যা করতে পারেনি, পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতা তা করে দেখিয়েছে।
লালমনিরহাটের এবারের ঈদ কাটল রক্তপাতহীন এক শান্ত পরিবেশে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামীতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও গতি নিয়ন্ত্রণের এই শিক্ষা কাজে লাগাতে পারলে সড়ক হবে আরও নিরাপদ।