পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের লাঠিচার্জ করতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিএফ কার্ড ইস্যু করার পর ওই গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সায়েম আলীর কাছে কার্ড চান যুবদল নেতা শামীম হোসেন লস্কর। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সকালে দুই নেতার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য সন্ধ্যায় স্থানীয় মাতব্বররা সালিস বৈঠকে বসেন। কিন্তু উত্তেজনা প্রশমনের বদলে আলোচনা ধীরে ধীরে সংঘাতের দিকে গড়ায়।
সালিসের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সায়েম আলী ও শামীম হোসেনের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত উপস্থিতিতে বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, বর্তমানে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আবার উত্তপ্ত না হয় সে জন্য পুরো এলাকা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যৌথ বাহিনী। স্থানীয়দের মতে, ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা প্রশাসনের নজরদারি ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।