মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সুবর্ণচরে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে সরকারি খাসজমি দখলের মহোৎসব

(সুবর্ণচর প্রতিনিধি) নোয়াখালী নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলাতে চলছে সরকারি খাসজমি দখলের মহোৎসব। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের নিরব সমর্থন এবং নামমাত্র “ম্যানেজমেন্ট”-এর আশীর্বাদে খাসজমি দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণ করছেন। সবকিছু হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের চোখের সামনেই। সরেজমিনে দেখা যায়, খোদ উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়কটির পাশে ২নং চরবাটা […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ মার্চ ২০২৬, ১৬:৫৪

(সুবর্ণচর প্রতিনিধি) নোয়াখালী

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলাতে চলছে সরকারি খাসজমি দখলের মহোৎসব। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের নিরব সমর্থন এবং নামমাত্র “ম্যানেজমেন্ট”-এর আশীর্বাদে খাসজমি দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণ করছেন। সবকিছু হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের চোখের সামনেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, খোদ উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়কটির পাশে ২নং চরবাটা ইউনিয়নের ৩০৩ নং চরমজিদ মৌজার খাস খতিয়ানের আন্দরে ২১৪৬ দাগে সড়কের অংশে ০.৭২ একর ভূমিতে ভূঞারহাট এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব চলছে।

উক্ত দাগে যেটুকু বাকি আছে সেটাও দখল হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে জনবসতি সংলগ্ন খাসজমি গুলোতে এখন একের পর এক দখল অভিযানে মেতে উঠেছে ভূমিদস্যুরা। উল্লেখ্য পূর্বে উক্ত ভূমিতে অবৈধ খাস জমি দখলের কারণে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিট্রেট দেবাশীষ দাস কর্তৃক খাস জমি হইতে অবৈধ স্থাপনায় গড়ে উঠা ২০টি দোকানঘর গুড়িয়ে দেন। পূর্বের উচ্ছেদ অভিযানের একটি কপি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রভাবশালীদের একটি সিন্ডিকেট কেউ আবার মিথ্যা তথ্যে দিয়ে নিজেদের ভূমিহীন দাবি করে, কেউ আবার নিজেদের নিকট আত্নীয়স্বজন, রাজনৈতিক দলের কর্মী- সমর্থকদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভূমিহীন সনদ নেন। এরপর নামে-বেনামে একসনা বনধোবন্ত নথি সৃজন করে খাসজমি দখল করে স্থায়ী ঘর তুলে মাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করছেন।

এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মূলত নামধারী ভূমিহীন ও জমি-ব্যবসায়ী। সমাজে এদের মূল্যায়ন তোলা তোলা। যদিও ভূমি নীতিমালা অনুযারী প্রকৃত ব্যবসায়ী ছাড়া কোথাও কোন (চান্দিনা) দোকান ভিটি বনধোবন্ত দেওয়ার বিধান নেই। এছাড়াও দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে, কোন স্থায়ী সম্পদ নেই এমন শ্রেণীর ব্যক্তিরা খাস জমি ভূমিহীন হিসেবে বনধোবস্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে ভূমি আইনে। অথচ প্রকৃত ভূমিহীনরা পাচ্ছে না ভূমি বনধোবস্ত।

প্রশাসনের এক শ্রেণীর লোভী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রভাবশালীদের কব্জায় সরকারি খাস জমির আজ অস্তিত্ব সংকটে।

সরেজমিনে দেখাযায়, ভূমিদস্যুরা এসব ক্যাটাগরির কোনটিতে নেই। পারিবারিক ও স্থানীয় মদদে প্রশাসনের উদাসীনতায় চলছে জমি দখল ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ।

আরও জানা গেছে, কিছু কিছু দখলকারী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে ওই সুযোগেই নির্বিঘ্নে দখল কার্যক্রম চালাচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, স্বৈরশাসন আমলে দখল করা ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন দোকান ভিটি, খাস জমি দখল করে বর্তমান সরকার আমলের অনেকের নিকট লাখ লাখ টাকা বিক্রি করে  দেশের বাহিরে অর্থ পাচার করছেন। কেউ কেউ অন্যত্র সম্পদ গড়ে তুলছেন, নানা ব্যবসার অংশীদার হচ্ছেন। প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতায় অত্র উপজেলায় ভূমি খাতটি থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় বার বার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তথ্যসহ সকল কিছু জানলেও নিরব থাকে প্রশাসন! সরকারি ভূমি রক্ষায় আইন কাগজে কলমে বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি ভূমিকা নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোর।  

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে ইউএনও অবগত থাকলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

দখলকারীরা প্রকাশ্যেই বলে বেড়ায়-‘সব ম্যানেজ করা আছে।’ সরকারি খাসজমি ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের হলেও বছরের পর বছর ধরে এসব জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে- আর এসব বিষয়ে প্রশাসনের নীরব সমর্থন রয়েছে বলে খবর নিয়ে জানা গেছে। খাসজমি দখল ঠেকাতে সরকারের কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও সুবর্ণচরে যেন তার কোনো প্রয়োগ নেই। দিন দিন বাড়ছে দখলের পরিধি, আর কমছে সরকারি সম্পত্তি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে যদি প্রশাসন নিরব থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি খাসজমি নামমাত্র কাগজে থাকলেও বাস্তবে পুরোপুরি দখল হয়ে যাবে কিছু প্রভাবশালীর হাতে।

অপরদিকে এমনও অনেক ভিপি সম্পত্তি লিজ দেওয়া আছে যেগুলোর প্রকৃত লিজাররা জমি বুঝে পায়নি কিন্তু প্রতি বছর খাজনা পরিশোধ করেন। অথচ সেই জায়গা দখল করে বাড়ি-ঘর করে আছে অন্য কেউ সেদিকেও নজর নেই প্রশাসনের। প্রকৃত লিজাররা ইউএনও এসিল্যান্ড এর কাছে বহুবার অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাননি। বরং তারা অন্য আইনের গল্প শুনিয়ে ছেড়ে দেয় ভিকটিমদের। দেখলে মনে হয় এখন সব মগের মুল্লুক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের প্রকৃত সচেতন ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ, একাধিক পথচারীদের দাবি, খাসজমি দখল বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ইতোমধ্যেই যারা সরকারি খাসজমি দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান বলেন, আচ্ছা আমি বিষয়টি জানি না। জেনে বিস্তারিত আইনগত পদক্ষেপ নিবো। রিপোর্টটি লেখার আগ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনের তরফ হতে। এতে কানাঘুষা করছে সচেতন নাগরিক সমাজের মানুষজন তাহলে মনে হচ্ছে ‘সর্ষের মধ্যে কি ভূত??

এ ব্যাপারে সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন জানান, আসলে অর্পিত বা ভিপি সম্পত্তি বাদে অন্যান্য খাস জায়গাগুলো তেমন ভাবে তদারকি করা হয় না। তবে আমরা চেষ্টা করছি সরকারি সম্পদ রক্ষায়।

যখন যেটা প্রয়োজন হয় তখন সে জায়গা আমরা নিয়ে নেই। প্রয়োজন হলে উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদকৃত জমিতে স্থায়ী ইমারত নির্মাণে না কি আপনি অনুমতি দিয়েছেন গুঞ্জন উঠেছে ? তাই কোন পদক্ষেপ না নিয়ে নিরব আছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি? আপনি কি সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান ভিটি করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন?? রাখলে সেই আইন কোনটি, জানান। 

বিগত সময়ে আমরা অনেক জায়গা উদ্ধার করে সরকারি ভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন যারা খাস জায়গা দখল করে আছে তাদের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো। তারপরও এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।