মঈন উদ্দীন,বান্দরবান
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) এর আয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদ গঠন, চেয়ারম্যান পদে বাঙালিদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি, ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রবর্তন এবং প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ) সকালে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের নিচ তলায় একটি বেসরকারি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ এর চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান।
আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ,বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য নাছির উদ্দিন,কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শাহ জালালসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক।
লিখিত বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ এর চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং ৩৭ বছর ধরে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ অনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
এতে জবাবদিহির অভাব তৈরি হয়েছে এবং দুর্নীতি ও অনিয়ম বেড়েছে বলে দাবি করা হয়। সংগঠনের মতে, আইন অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে এবং সব সম্প্রদায়ের জন্য সমান অংশগ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পাহাড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তারা প্রত্যাহার করা ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, দুর্গম এলাকায় সেনা মোতায়েন জোরদার এবং পুলিশের পরিবর্তে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান। পাশাপাশি ১০৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। তারা দাবি করেন, দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন বহাল রাখা উচিত নয় এবং পার্বত্য অঞ্চলে সংবিধানের আলোকে শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন-এর নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, সরকার পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
এ ছাড়া ভূমি কমিশন আইন সংশোধন করে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ, বাজারফান্ড এলাকায় হাউজলোন পুনরায় চালু এবং শিক্ষা-চাকরিতে বৈষম্য দূর করার দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা সরকারের প্রতি তাদের দাবিসমূহ জনস্বার্থে বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।