মোঃআতেফ ভূঁইয়া গাজীপুর
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের প্রায় প্রতিটি মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও এবার ব্যতিক্রম ঘটেছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজধানীর অদূরে শিল্পসমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা গাজীপুর থেকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় কেউ স্থান পাননি। এতে জেলায় সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।
গাজীপুরবাসী ও দলীয় সূত্র জানায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ও বাঙালি সৈনিকদের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে গাজীপুরে। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কাপাসিয়ার কৃতী সন্তান তাজউদ্দিন আহমদ। এরপর থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসন থেকে অন্তত একজন করে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী। খালেদা জিয়া-এর আমলে আ স ম হান্নান শাহ ও এম এ মান্নান গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ-এর সময়ও মন্ত্রিসভায় ছিল এ জেলার প্রতিনিধিত্ব। এমনকি বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন গাজীপুর থেকে।
কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের কেউ স্থান পাননি। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হলেও মন্ত্রিসভায় তাদের কাউকেই রাখা হয়নি। গাজীপুর-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মেয়র মজিবুর রহমানের নাম মন্ত্রিসভায় আসতে পারে—এমন গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার নামও তালিকায় আসেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা ও দলীয় কৌশল বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে শিল্প, অর্থনীতি ও জনসংখ্যার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ জেলা গাজীপুর থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
গাজীপুর জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ছানোয়ার হোসেন খাঁন বলেন, “গাজীপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি জয়ী হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর-১ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন মেয়র মজিবুর রহমান। আমরা আশা করেছিলাম, মন্ত্রিসভায় তার ডাক পড়বে। কিন্তু ঘোষিত তালিকায় গাজীপুর থেকে কারও নাম নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কাছে আমাদের দাবি, তিনি যেন গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা বিবেচনায় নেন।”
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) কাজী ছায়েদুল আলম বাবুল বলেন, “দল সরকার গঠন করেছে, এতে আমরা আনন্দিত। তবে গাজীপুর থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় না থাকায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে আক্ষেপ রয়েছে। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
জেলার সর্বস্তরের মানুষের দাবি, শিল্প ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা গাজীপুর থেকে অন্তত একজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও ত্বরান্বিত হতো। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে গাজীপুরের প্রত্যাশা পূরণ হয় কি না।