মুশফিক হাওলাদার , লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড’র পূর্ব রামগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো নিকটবর্তী মসজিদ না থাকায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে স্থানীয় মুসল্লিদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের দূরের মসজিদে যেতে কষ্ট হওয়ায় অনেকে’ই নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এলাকাবাসীর সেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে স্থানীয় উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসা মসজিদ।
জানা যায়, উপজেলার কালমা ইউনিয়নে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি মোঃ শাহজাহান মিয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই মসজিদের নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেন। সিমিত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি ধীরে ধীরে অর্থ সঞ্চয় করে মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। মসজিদ নির্মাণের জন্য মূল্যবান জমি দান করেন এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি ডাক্তার মো. আব্দুল জলিল, যা এলাকাবাসীর কাছে এক মহৎ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ শাহজাহান মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকে’ই আমার একটি ইচ্ছা ছিল_আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের অর্থায়নে একটি মসজিদ নির্মাণ করবো। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছি এবং আল্লাহর রহমতে মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসা মসজিদের কাজ শুরু করতে পেরেছি। আমি একজন সাধারণ মানুষ, তবুও বিশ্বাস করি, ভালো নিয়ত থাকলে আল্লাহ অবশ্য’ই সাহায্য করেন।
জমিদাতা ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার মো. আবদুল জলিল সিকদার জানান, মাদ্রাসা ও মসজিদের এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। মেঝের কাজ, প্লাস্টার, রং, অজুখানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্পন্ন করা প্রয়োজন। আমি নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সমাজের বিত্তবান ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে খুব দ্রুত’ই মাদ্রাসা ও মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে পারব।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মসজিদটি নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এখন নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং শিশু, কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের পথও সুগম হয়েছে। এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং এটি এলাকার ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা মসজিদের অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মতে, একটি মসজিদ নির্মাণ ও এর কাজে সহযোগিতা করা একটি মহৎ ইবাদত। তাই তারা আশা করছেন, আল্লাহর ঘরের এই কাজ সম্পন্ন করতে দেশ-বিদেশের দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবেন এবং অচিরেই মসজিদটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।