কুয়াকাটায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও হুমকির ঘটনায় মো. মাকছুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ভিডিওতে যে চিত্র উঠে এসেছে তা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দোকানঘরের জায়গার মালিকানা দাবি কেন্দ্র করে এই হামলার সূত্রপাত। দীর্ঘদিন ধরে জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। সেই বিরোধ একপর্যায়ে প্রকাশ্য হামলা ও ভাঙচুরে রূপ নেয়। ভুক্তভোগী দোকান মালিক মনির বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় হামলা, ভাঙচুর, হুমকি ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এ ধরনের দখলবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মহব্বত খান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনে কারও মদদ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মাকছুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল পটুয়াখালী জেলা শাখা। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জেলা সভাপতি মো. মশিউর রহমান মিলন ও সাধারণ সম্পাদক মো. এনায়েত হোসেন মোহন এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জায়গা জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধই মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, জমি দখল ও প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা আইনশৃঙ্খলার জন্য অশনিসংকেত। এমন প্রবণতা কঠোরভাবে দমন না করা গেলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।