ক্রাইম রিপোর্টারঃ
১ম অনুসন্ধানী পর্ব,,,,,,
ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখার সার্ভেয়ার,জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪ তম গ্রেট এর কর্মচারী বেতন সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা এই বেতনের একজন ব্যক্তি যদি ২০ বছর চাকরি করার পরে বেতন বোনাস মিলিয়ে আয় ৭০ লাখ টাকা ও হবে না।
পারিবারিক হিসাবটা বাদই দিলাম অথচ ১৪তম গ্রেডের সরকারি এ কর্মচারীর সম্পদের পরিমাণ শুনলে যে কারও মাথা ঘুরে যাবে।বরিশাল/পটুয়াখালী শহরে রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের কয়েকটি ফ্লাট, রাজধানীর বহুতল ভবনে রয়েছে ১টি ফ্ল্যাট,নিজ জেলা পটুয়াখালীতে রয়েছে কোটি টাকার অধিক জমি।
সর্বসাকুল্যে মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা হলে কীভাবে এ সময়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব? হয়তো আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের ছোঁয়ায় তিনি এত সম্পদের মালিক বনে গেছেন!
বলছি কলাপাড়া উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার মোশাররফ হোসেন এর কথা, তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায়। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে তাকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখায় বদলি করা হয়।বর্তমানে তিনি কলাপাড়া ভুমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন এর আগে তিনি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এল/এ শাখায় কর্মরত ছিলেন।বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন সময়ে তিনি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখার বিভিন্ন অনিয়ম,দুর্নীতি, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার হাতিয়ে নিয়েছেন এবং সেই টাকা দিয়ে তিনি এই সম্পদ গড়েছেন।
তিনি তার পরিবার নিয়ে বর্তমানে বিলাশবহুল জীবনযাপন করছে যা একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর পক্ষে অসম্ভব।
বাংলাদেশে ভূমি অধিগ্রহন শাখা বা ভূমি অফিসের সার্ভেয়াররা সাধারণত জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪ তম গ্রেড-এর কর্মচারী [৩,৫]।এদের মন বেতন স্কেল ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা [১]।মূল বেতনের সাথে বাড়ি ভাড়া,চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সহ একজন সার্ভেয়ারের মাসিক বেতন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি পরে তার কাছে তার দৃশ্যমান সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে তার পরিচিত এক সাংবাদিক ভাইকে নিয়ে একসঙ্গে চা-নাস্তা করার জন্য অনুরোধ জানায়,
পরবর্তীতে জানা যায় তিনি সাংবাদিকদের এভাবেই ম্যানেজ করে থাকেন তার পরিচিত কিছু সাংবাদিকের সুপারিশের মাধ্যমে।পরবর্তীতে তাকে ফোন দিলে সে আর ফোন রিসিভ করেনি।এ বিষয়ে দুদক বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই দুদক তার দুর্নীতি,ঘুষ,কমিশন বানিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকা দিয়ে সম্পদ ক্রয়ের হিসাব তলব করবে।