শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একপর্যায়ে পুরো শাহবাগ এলাকা পরিণত হয় প্রতিবাদী জনসমুদ্রে। চারদিক থেকে ভেসে আসে— ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ব’, ‘হাদির খুনিদের বিচার চাই’, ‘ইনসাফ চাই, বিচার চাই’— এমন স্লোগান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। এতে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ওসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি আদর্শ, একটি প্রতিরোধের নাম। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর যে সাহস হাদি দেখিয়েছেন, তা দমন করে রাখা যাবে না। তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং এখনও খুনিরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আজ হাদির জন্য শাহবাগে নামা মানে ভবিষ্যতের সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। একজন তরুণ বলেন, “হাদিকে হত্যা করে আন্দোলন থামানো যাবে না। আজ হাদি নেই, কিন্তু হাজারো হাদি জন্ম নিচ্ছে।”
নারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনেকের হাতে ছিল হাদির ছবি, প্ল্যাকার্ড ও প্রতিবাদী স্লোগান লেখা ব্যানার। কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের পানি ফেলেন, আবার কেউ দৃপ্ত কণ্ঠে স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি শহীদ হন।
সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগসহ সারা দেশে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বক্তারা বলেন, এই লড়াই কোনো একদিনের নয়— “আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ব।