নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া এলাকায় ভূমিকম্পের পরপরই বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের তার ঘর্ষণ থেকে সৃষ্ট স্পার্ক পাশের তুলা প্রেসিং কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটায়। শুক্রবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বন্দর ও সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
কারখানাটি স্থানীয়দের কাছে জুলহাস মিয়ার তুলা গাইট বাঁধার কারখানা নামে পরিচিত। এলাকাবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ধাক্কায় ট্রান্সফরমারটি কারখানার দেয়ালে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গেই একটি তার অন্য তারের সঙ্গে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে। সেই ঘর্ষণ থেকে উৎপন্ন আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ে তুলার ওপর। কারখানার ভেতরে থাকা হাইড্রলিক প্রেস মেশিনের তেলের ড্রাম বিস্ফোরিত হওয়ায় মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকজুড়ে। ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে তিনজন আহত হন এবং তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন, তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
কারখানার মালিক জুলহাস মিয়া বলেন, ভূমিকম্পের সময় শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ করছিলেন। তিনি জানান, ‘‘হঠাৎ বৈদ্যুতিক খুঁটির দুই তার সংস্পর্শে এসে আগুনের ফুলকি পড়ে তুলার ওপর। মুহূর্তেই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে যায়।’’ তার দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়েছে।
স্থানীয় তুলা ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, বিভিন্ন কারখানার তুলা এখানে এনে গাইট তৈরি করা হয় এবং এসব তুলা ভারত, নেপাল ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। তার বক্তব্য, তাদেরও মালামাল ছিল এবং এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জুন–২ এর উপ-সহকারী পরিচালক ওসমান গণী বলেন, ‘‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কাজ শুরু করি। পাঁচটি ইউনিট তিন ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’’ তিনি আরও জানান, পাশেই একটি ডোবা থাকায় পানি সংগ্রহে সুবিধা হয়েছে, তবে এত বড় কারখানায় কোনো অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে না পড়ায় বিষয়টি তদন্তে নেওয়া হচ্ছে।
বন্দর থানার ওসি লিয়াকত আলী বলেন, ‘‘আগুন লাগার খবর পেয়ে ধামগড় ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।’’ ঘটনাস্থলে এখনও স্থানীয়দের ভয় ও ক্ষতির বর্ণনা ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।