এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, নতুন সংসদ হবে ইনসাফভিত্তিক এবং ন্যায়-অন্যায়ের স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণকারী একটি সংসদ। তিনি জানান, গণবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিহত করা হবে।
জনগণ কল্যাণের প্রত্যাশায় তাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই আস্থার প্রতিদান দিতে তারা কাজ করে যাবেন। এমনকি প্রতিপক্ষের সঙ্গেও ন্যায়বিচার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বিজয়োত্তর প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত অভিযোগ করেন, অতীতের কয়েকটি সংসদে সরকার ও বিরোধী দল নির্ধারণ হয়েছে সমঝোতার মাধ্যমে, যেখানে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা ছিল না। তিনি বলেন, সে ধরনের সংসদে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব অনুপস্থিত ছিল। এবারের সংসদ অংশগ্রহণমূলক হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা প্রায়ই অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইনসাফই বিজয়ী হয়। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সরকার যদি জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা রাজপথে আন্দোলন এবং সংসদের ভেতরে বিধি অনুযায়ী প্রতিবাদের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব বেড়েছে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, তারা রাজপথের আন্দোলন থেকে উঠে এসেছেন এবং শহীদ ও আহতদের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এতদিন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকলেও জনগণ এখন সেই দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ওপর অর্পণ করেছে।
এ বিজয়কে তিনি উচ্ছ্বাসের বিষয় হিসেবে নয়, বরং আরও বিনয় ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার হিসেবে দেখছেন। দেবিদ্বারসহ দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখতে পারাই হবে প্রকৃত সাফল্য।
তিনি জানান, নির্বাচনি এলাকা দেবিদ্বারের উন্নয়ন তার অগ্রাধিকার। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার, জুলাইয়ে আহতদের ন্যায্য অধিকার এবং সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
দেবিদ্বারের অবকাঠামোগত দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন জরুরি। এলাকায় প্রবাসীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে; তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, এটি প্রতিবাদের প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেখানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করা হবে।