সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (সময় উল্লেখ না করে) নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ। কোনো সংকট বা অস্থিরতার সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ কেন ভয়ের মধ্যে থাকবে—এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জামায়াত সেই ভয়ের সংস্কৃতি ভেঙে দিতে চায়।
তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, যারা সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেছে, সাঁওতাল পল্লীর ঘটনার সময় তাদের ভূমিকা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। জামায়াত সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, মা-বোনদের ঘরে, বাইরে ও কর্মস্থলে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম যেন নারীদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে ছাত্রীদের লাঞ্ছনার ঘটনায় যেভাবে তরুণ সমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল, ভবিষ্যতেও কোনো নারীর ওপর নির্যাতন হলে দেশবাসী একইভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেওয়া হবে না। মেগা প্রকল্পের নামে যারা মেগা দুর্নীতি করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, তাদের কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করা হবে। ব্যাংক ডাকাত ও মিথ্যা মামলাবাজদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।
নওগাঁকে উত্তরবঙ্গের ‘কৃষির রাজধানী’ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই জেলার উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—শহরের প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সংরক্ষণাগার ও ফ্রুট প্রসেসিং শিল্প স্থাপন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের বিকাশ।
জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এতে নওগাঁর বিভিন্ন আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা, বিশিষ্ট আইনজীবী ও ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই নওগাঁর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন।