বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া–ফুলতলা) আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, তারা মূলত দেশের বিদ্যমান দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে চায়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনী জনসভা, মিছিল, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করা না গেলে গত ৫৪ বছরে দেশ যে দুর্ভোগ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছে, সেই ধারাই আবারও অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে ছাত্রসমাজ বিভিন্ন নির্বাচনে চাঁদাবাজদের পরাজিত করেছে। ফলে জাতীয় নির্বাচনেও দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের পরাজিত করা সম্ভব।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নৈতিকতা ও চরিত্রবান নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিতে হবে। তিনি বলেন, “ধানের শীষ, নৌকা কিংবা লাঙ্গল যদি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে, তবে দাঁড়িপাল্লাও পারবে—এটাই আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।” একই সঙ্গে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শত্রুতা নয়, বরং সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশপ্রেমের রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আসন্ন নির্বাচনকে তিনি এক ধরনের গণভোট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। যারা ‘না’ ভোটের কথা বলছে, তারা মূলত দুর্নীতিগ্রস্ত বর্তমান ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে গিয়ে আগে ভোট দিয়ে তারপর বাড়ি ফিরতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের সন্ত্রাস বা ভোট ডাকাতি ঠেকাতে যুবসমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নির্বাচিত হলে বিল ডাকাতিয়ার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “আমি নিজেও বিল ডাকাতিয়ার সন্তান। এখানকার জমি, ফসল ও মানুষের কষ্ট আমার নিজের কষ্ট। তাই আল্লাহ যদি আমাকে দায়িত্ব দেন, আমার প্রথম কাজ হবে বিল ডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।” এ সমস্যা সমাধানের পর ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, মসজিদ-মন্দিরসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তাদের কেউই দুর্নীতিমুক্ত শাসনের দাবি করতে পারে না। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে একযোগে দায়ী করে তিনি বলেন, প্রতিটি সরকারের আমলেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও বিরোধী দমননীতির চর্চা হয়েছে।
ভোটারদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট কেনার উদ্দেশ্যে দেওয়া কালো টাকা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না। ভোট বিক্রি করা মানে নিজের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। তিনি এসব টাকা সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরামর্শ দেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন জরুরি। তিনি দাবি করেন, ১০১ দলীয় জোট রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে।
এ সময় তার সঙ্গে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাসসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।