আওয়ামী লীগ আমলের দখলদারি ও দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি যেন বিএনপিতে ঢুকতে না পারে—এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দলের কেউ যদি কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাকে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে এক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এদিন তিনি টানা গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেন।
বক্তব্যের শুরুতেই পূর্বতন শাসকদলের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে বাড়িঘর দখল, জমি লুট ও দুর্বৃত্তায়ন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। “আমরা সেই রাজনীতি করতে চাই না,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি। দলের ভেতরে কেউ দুর্নীতি বা সন্ত্রাসে জড়ালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন।
জুলাই আন্দোলনের পর দেশের ‘দমবন্ধ করা’ রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবসান হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “ওরা মামলা-বাণিজ্য করেছে বলে আমাদেরও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে—এমন মানসিকতা চলবে না। আমরা ভ্রাতৃত্ববোধের সমাজ গড়তে চাই।”
৭৮ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতা এদিন আবেগঘন কণ্ঠে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিজের পৈতৃক জমি বিক্রি করেই রাজনীতি করেছেন। “এটাই সম্ভবত আমার শেষ নির্বাচন। এরপর আর সুযোগ নাও থাকতে পারে। ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার শেষ সুযোগটি আমাকে দিন,”—ভোটারদের উদ্দেশে বলেন তিনি।
স্থানীয়দের উদ্দেশে মেঠো ভাষায় ফখরুলের প্রশ্ন—“আপনারা কি আমাকে চেনেন না? নতুন করে কি আমাকে চিনিয়ে দিতে হবে?”—এই কথায় সভায় হাসির রোল উঠলেও অনেকেই এতে একজন প্রবীণ রাজনীতিকের গভীর আকুতি অনুভব করেন।
নির্বাচনি প্রতীক প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ চিহ্নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এই প্রতীকধারীরা পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ছিল—এটি ঐতিহাসিক সত্য। “বিএনপি পাঁচবার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, আমরা পরীক্ষিত,”—বলেন তিনি এবং ভোটারদের সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিন গড়েয়া গোপালপুর ইসকন মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “নিজেরা শক্ত হোন, প্রতিরোধের সাহস গড়ে তুলুন। নিজের ভোট স্বাধীনভাবে যাকে খুশি তাকে দিন।” সেখানে শঙ্খধ্বনি ও পুষ্পমাল্যে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়।
কারাবন্দি অবস্থায় স্ত্রীর অসুস্থতার স্মৃতি তুলে ধরে ফখরুল বলেন, স্ত্রী অপারেশনের সময়ও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। “অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি, কিন্তু কখনো মাথা নত করিনি,”—যোগ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন শেষে নিজ এলাকায় আবারও গণসংযোগে নামেন বিএনপির মহাসচিব। জানা গেছে, ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা সাত দিন তিনি নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় থাকবেন।