অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার বিচার দাবি করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত দুদকের মাধ্যমে হওয়া উচিত এবং এই বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।
সোমবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে আয়োজিত ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাছির উদ্দিন নাছির দাবি করেন, জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে ভূমিকা রাখার পর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে আসিফ মাহমুদ হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন—যা দেশের মানুষের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ অবশ্যই তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
পোস্টাল ব্যালটে পক্ষপাতিত্বসহ তিনটি ইস্যুতে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। সংগঠনটির নেতারা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সেখানে জামায়াত-শিবির বা রাজাকারদের ক্ষমতায় আনার কোনো প্রচেষ্টা—বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে—আমরা মেনে নেব না।’ তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের নামে পোস্টাল ব্যালট ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দুটি রাজনৈতিক দল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে তাদের আশঙ্কা। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া একজন ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা হওয়ার পর দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন—যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার পরিপন্থী।
এ সময় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে কমিশনের হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইসির বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত বলে দাবি করে ছাত্রদল।