রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) রোভার স্কাউট গ্রুপের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক তাঁবুবাস, দীক্ষা ও ব্যাজ প্রদান ক্যাম্প-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পে দীক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে ১২০ জন ‘সহচর’ জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ লাভ করেছেন।
গত ১৭ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সম্পন্ন হওয়া তিনদিন ব্যাপী এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।
গ্রুপ সম্পাদক ড. মো. মিন্টু আলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের সম্পাদক প্রফেসর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং ঢাকা জেলা রোভারের কমিশনার মু. ওমর আলী। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জবি রোভার স্কাউট গ্রুপ লিডার সাদিয়া আখতার ও নাহরিন জান্নাত।
১৫ জানুয়ারি উদ্বোধনের পর সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে ‘স্কাউট ওউন’ শেষে রোভার দলটি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় অবস্থিত আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সেখানে ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি দুই রাতের তাঁবুবাসসহ প্রশিক্ষণের নানা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এর মধ্যে ছিল অ্যারোবিক্স, হাইকিং, কিমস গেইম, ক্যাম্প ফায়ার ও মহাতাঁবু জলসা। ক্যাম্পের শেষ দিন ১৭ জানুয়ারি জবি রোভার গ্রুপ সম্পাদক ড. মো. মিন্টু আলী বিশ্বাস নবাগতদের দীক্ষা প্রদান করেন।
আয়োজনটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে জবি রোভার ইন কাউন্সিলের সম্পাদক নাজমুল হোসেন বলেন, “ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন রোভারদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে রোভাররা স্কাউটিংয়ের মৌলিক নীতিমালা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, আত্মশুদ্ধি, দলীয় সমন্বয় এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করেছেন।”
ক্যাম্পে বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জন রোভার সদস্য অংশ নেন। ক্যাম্প শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে রোভারদের দক্ষতা অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ রাম্বলিং এবং সেবা প্রশিক্ষণের ব্যাজ প্রদান করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে সম্মানসূচক স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর চার শতাধিক শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউটে যুক্ত হতে প্রাথমিক সদস্য ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। সহচর পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম, উপস্থিতি এবং সামগ্রিক ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বাছাইপর্ব শেষে যোগ্য ১২০ জন সহচর এই দীক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান।