গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর মন্তব্য করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করলে একটি আসনেও জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। তাঁর ভাষায়, কোনো দলের সহযোগিতা ছাড়া এনসিপির পক্ষে সংসদে যাওয়ার সুযোগ নেই।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকারপক্ষের নানা সুবিধা ও আশীর্বাদ থাকার পরও এনসিপি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। বর্তমানে দলটিকে জামায়াতে ইসলামী–র আশ্রয়ে রাজনীতি করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, “এনসিপি যদি নিজের মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে একটি সিঙ্গেল আসনেও জয়ের সম্ভাবনা নেই। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি—কোনো রাজনৈতিক দলের সহায়তা ছাড়া এনসিপি একটিও আসনে জয়ী হতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন উপদেষ্টা দায়িত্বে থাকলেও উল্লেখযোগ্য বা দৃষ্টান্তমূলক কোনো পরিবর্তন আনতে পারেননি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কিংবা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পরও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
নুরের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় পার্টি বা কনভেনশন-ধারার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে অনেকেই নতুন দল গড়লেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। সরকারি সমর্থন ও সুযোগ-সুবিধা পেয়েও তারা শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত অন্য দলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত-শিবিরের প্রকাশ্য রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার সময় তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্দেহভাজন সদস্যদের ওপর হামলার বিরোধিতা করা হয়েছিল। তবে গত ৫ আগস্টের পর সবাই আবার নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থানে ফিরে গেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও পুরোনো কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। নতুন রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলতে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গালাগালিকে তিনি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য বড় অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেন।